ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে মারা গেলেন শিল্পী আতিয়া ইসলাম

দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী আতিয়া ইসলাম আর নেই। বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যানসারে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর।
বাংলাদেশের সমকালীন চিত্রকলায় আতিয়া ইসলাম ছিলেন একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তাঁর শিল্পকর্মে বারবার উঠে এসেছে সমাজে নারীর অবস্থান, পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার প্রভাব, নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতার নানা দিক। একই সঙ্গে নারীবাদী আন্দোলন, প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের বিষয়ও তাঁর ক্যানভাসে বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে।
১৯৬২ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন আতিয়া ইসলাম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অঙ্কন ও চিত্রায়ণ বিভাগ থেকে ১৯৮২ সালে বিএফএ এবং ১৯৮৫ সালে এমএফএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ১৯৮১-৮২ মেয়াদে চারুকলা ছাত্র সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষক হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন। ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সানবিমসে চিত্রাঙ্কন বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। পাশাপাশি রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘ঝাপি স্কুল অব আর্ট’ নামে শিশুদের চিত্রাঙ্কন শিক্ষার একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন।
দেশ-বিদেশে তাঁর শিল্পকর্ম ব্যাপকভাবে প্রদর্শিত হয়েছে। গ্যালারি ২১, বেঙ্গল গ্যালারি অব ফাইন আর্টস এবং আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে একক প্রদর্শনীর পাশাপাশি ১৯৮১ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, মিয়ানমার ও বাংলাদেশে ৬০টিরও বেশি দলীয় প্রদর্শনীতে তাঁর চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে।
আতিয়া ইসলামের মৃত্যুতে দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর শিল্পকর্ম ও সৃজনশীল অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।





