ঋতু পরিবর্তনে অ্যালার্জি কমাতে যেসব অভ্যাস গড়ে তুলবেন

ঋতু পরিবর্তনের সময় অনেকেরই অ্যালার্জিজনিত সমস্যা বেড়ে যায়। অনবরত হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দৈনন্দিন জীবনকে অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে। অ্যান্টিহিস্টামিনসহ বিভিন্ন ওষুধ অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হলেও কিছু প্রাকৃতিক উপায়ও উপসর্গ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ত্রের সুস্থতা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা প্রদাহ ও অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য খাদ্যতালিকায় দইসহ প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার রাখা যেতে পারে।
নিয়মিত মধু গ্রহণ
নিয়মিত পরিমিত পরিমাণ মধু খাওয়ার অভ্যাস কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যালার্জির প্রবণতা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে যাদের মধুতে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি এড়িয়ে চলা উচিত।
অ্যাপেল সিডার ভিনেগার
অ্যাপেল সিডার ভিনেগার কফ উৎপাদন কমাতে এবং শ্বাসনালির অস্বস্তি কিছুটা লাঘব করতে সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক টেবিল চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার ও সামান্য মধু মিশিয়ে পান করা যেতে পারে।
নেজাল স্প্রে ব্যবহার
স্যালাইনযুক্ত নেজাল স্প্রে নাকের ভেতরের অ্যালার্জেন পরিষ্কার করতে এবং নাক বন্ধ বা জ্বালাপোড়ার অনুভূতি কমাতে সাহায্য করতে পারে। অ্যালার্জির মৌসুমে এটি অনেকের জন্য স্বস্তিদায়ক হতে পারে।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ফল, শাকসবজি, আঁশসমৃদ্ধ খাবার এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল অন্তর্ভুক্ত করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অন্ত্রের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও এসব খাবার সহায়ক।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, অ্যালার্জির উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রাকৃতিক উপায়গুলো সহায়ক হিসেবে কাজ করলেও চিকিৎসার বিকল্প নয়।





