আদিবাসীদের আয়কর অব্যাহতি বহাল রাখার দাবি চার সংসদ সদস্যের

পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর প্রস্তাবিত নতুন আয়কর আরোপ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ওই অঞ্চলের চারজন সংসদ সদস্য। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছেন তারা। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে উত্থাপিত অর্থবিলে আদিবাসীদের বেতন ও আর্থিক সম্পদ থেকে অর্জিত আয়ের ওপর কর আরোপের যে প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে চিঠিতে।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটির দীপেন দেওয়ান, বান্দরবানের সাচিং প্রু এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মাধবী মার্মা।
সংসদ সদস্যরা তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেন, পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীদের বর্তমান আর্থসামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় তাদের পূর্বের মতো পূর্ণাঙ্গ আয়কর অব্যাহতি বহাল রাখা জরুরি। তারা জানান, এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের আয়ের প্রধান উৎস জুম চাষ ও কৃষি নির্ভর কার্যক্রম। কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি পানির নিচে চলে যাওয়ায় অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে চিঠিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ এখনও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষের প্রধান পানির উৎস এখনো ঝরনা বা কূপ, আর অর্ধেকেরও বেশি মানুষ পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার বাইরে রয়েছে।
সংসদ সদস্যরা আরও উল্লেখ করেন, ১৯৪৮ সালের আয়কর অধ্যাদেশ এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালের আয়কর আইনের ষষ্ঠ তফসিলে আদিবাসীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড করমুক্ত রাখা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত অর্থবিলে ‘বেতন থেকে আয় ও আর্থিক সম্পদ থেকে আয় ব্যতীত’ শর্ত যুক্ত করায় তাদের বেতন ও সঞ্চিত সম্পদের ওপর কর আরোপের বিষয়টি সামনে এসেছে, যা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
তাদের মতে, এ ধরনের কর আরোপ আদিবাসীদের জীবনমানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তারা ২০২৩ সালের আয়কর আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী বাতিল করে আগের মতো কর অব্যাহতি বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে ব্যক্তিগত আয়ের পাশাপাশি আদিবাসীদের মালিকানাধীন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান—যেমন খামার, কোম্পানি বা সমিতি—যেগুলো পার্বত্য অঞ্চলে পরিচালিত হয়, সেগুলোকেও করমুক্ত ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্যরা।






