টানা মন্দায় রপ্তানি, বছরে আয় কমেছে শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় সামান্য কমে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অর্থবছরজুড়ে রপ্তানি খাত ছিল বেশ চাপের মধ্যে। ১২ মাসের মধ্যে ৯ মাসেই আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি কমেছে। ফলে সামগ্রিকভাবে রপ্তানি আয়ে পতনের ধারাতেই শেষ হয়েছে বিদায়ী অর্থবছর।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৪ হাজার ৮০ কোটি ডলার বা ৪৮ বিলিয়ন ডলার। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় আয় কমেছে প্রায় ২০ কোটি ডলার, যা শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ হ্রাসের সমান।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ৪ হাজার ৮২৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল ৪ হাজার ৪৪৭ কোটি ডলার এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ৪ হাজার ৬৪৩ কোটি ডলার।
গত অর্থবছরের রপ্তানি প্রবণতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও আগস্ট থেকে মার্চ পর্যন্ত টানা আট মাস রপ্তানি কমেছে। এপ্রিলে ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও তা মূলত আগের বছরের একই সময়ের দুর্বল ভিত্তির কারণে হয়েছিল। মে মাসে আবার রপ্তানি কমে যায়। তবে শেষ মাস জুনে রপ্তানি ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একপর্যায়ে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হলেও পরে তা ২০ শতাংশে নেমে আসে। একই সময়ে চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর আরও বেশি শুল্ক আরোপ হওয়ায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের বাজারগুলোতে রপ্তানি জোরদার করে। ফলে ইউরোপসহ বিভিন্ন বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা বেড়ে যায়।
গত অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে তৈরি পোশাক খাত থেকেই এসেছে ৩ হাজার ৮৭০ কোটি ডলার। বাকি সব খাত মিলিয়ে আয় হয়েছে ৯৩০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমেছে।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্টের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ—উভয় কারণেই রপ্তানি কমেছে। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, মার্কিন শুল্কনীতি এবং অন্যান্য বাজারে চীনের বাড়তি উপস্থিতি বাংলাদেশের রপ্তানিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকট, বন্দর ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো, লজিস্টিকস ও পশ্চাৎসংযোগ শিল্পের দুর্বলতাও দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তৈরি পোশাকের বাইরে কয়েকটি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি ৭ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১২৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। হোম টেক্সটাইল রপ্তানি প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ৯৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৮ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। প্রকৌশল পণ্যে প্রায় ২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ৬৫ কোটি ডলার।
অন্যদিকে কৃষিপণ্য রপ্তানি ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমে ৯৮ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে কার্যকর নীতি সহায়তা এখন সময়ের দাবি।




