আশুরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের শিক্ষা দেয়: চরমোনাই পীর

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, ১০ মহররম মানব ইতিহাসে যেমন একটি বেদনাবিধুর স্মৃতির দিন, তেমনি অন্যায্য শাসন ও ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রামের অনিঃশেষ প্রেরণার উৎস।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ দিনে হজরত হোসাইন (রা.) ও তাঁর পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। একই সঙ্গে কারবালার আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে সব ধরনের অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে অব্যাহত সংগ্রামের প্রত্যয় গ্রহণ করা প্রয়োজন।
চরমোনাই পীর বলেন, আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা মুসলমানদের ঈমানি দায়িত্বের অংশ। ইতিহাস চর্চা বা অন্য কোনো প্রসঙ্গেও এমন কোনো বক্তব্য, শব্দ বা আচরণ করা উচিত নয়, যাতে আহলে বাইতের প্রতি অসম্মান প্রকাশ পায়।
তিনি আরও বলেন, ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রেও সংযম ও শরিয়তের সীমারেখা মেনে চলা প্রয়োজন। বিশেষ করে হজরত মুয়াবিয়া (রা.)-সহ সাহাবায়ে কেরামের সম্পর্কে কটূক্তি করা সমীচীন নয়। ইসলামের শিক্ষা হলো ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক আচরণ, তাই এ ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি কিংবা অবহেলা—কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, কারবালার ঘটনা সংঘটিত হওয়ার আগ থেকেই আশুরা ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন হিসেবে বিবেচিত। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আশুরার দিনের বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরেছেন এবং এ দিনের রোজার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, আশুরার তাৎপর্য যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে মুসলমানদের ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মহররম রোজা পালন এবং সুন্নাহসম্মত তাসবিহ-তাহলিল ও নফল ইবাদতে মনোযোগী হওয়া উচিত। তিনি পবিত্র আশুরার শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ধারণ করার আহ্বান জানান।





