নিজের বিরুদ্ধে ‘বিষোদগার’ নিয়ে মুখ খুললেন মাহফুজ আলম

নিজের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বুধবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
‘সব দোষ মাহফুজ আলমে’র ইতিবৃত্ত’ শিরোনামে দেওয়া ওই পোস্টে মাহফুজ আলম দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে হওয়া অধিকাংশ সমালোচনা ও আক্রমণ জুলাই আন্দোলনের পক্ষের দাবি করা কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর কাছ থেকেই এসেছে। পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময়কার নানা ঘটনার জন্য যদি তাকে দায়ী করা হয়, তাহলে একই সময়ে বা পরবর্তী সময়ে দায়িত্বে থাকা অন্যদের দায়মুক্তি কেন থাকবে।
মাহফুজ আলম লেখেন, তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিষয়ে মতামত প্রকাশ করলেও তা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ছিল না। তার ভাষ্য, মতাদর্শগত বিতর্ক এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও গালিগালাজ কোনো সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ নয়। তিনি আরও দাবি করেন, সরকারের দায়িত্বে থাকার সময় নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাকে নানা ক্ষেত্রে কোণঠাসা করা হয়েছিল। এমনকি নিজের নিরাপত্তা ও সম্মানের কথা বিবেচনা করে অনেক বিষয়ে নীরব থাকতেও বাধ্য হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে তিনি কোনো সরকারি দায়িত্বে নেই, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিও নন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বেও নেই। এরপরও তাকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পোস্টের একাংশে মাহফুজ আলম দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের দাবি কিংবা প্রাণনাশের ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যও দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন বা ঐতিহাসিক ঘটনাকে একজন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেখার প্রবণতা বাস্তবসম্মত নয়। তার মতে, একটি বৃহৎ গণআন্দোলনের সাফল্য বা ব্যর্থতাকে কোনো একক ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলে সেটি আন্দোলনের গুরুত্বকেই খাটো করে। স্ট্যাটাসের শেষাংশে মাহফুজ আলম রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতপার্থক্য নিয়ে যুক্তিনির্ভর বিতর্কের আহ্বান জানান। ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ও গালিগালাজের পরিবর্তে নীতি, আদর্শ ও রাষ্ট্রীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে ব্যক্তি আক্রমণের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে নীতিগত ও গঠনমূলক আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। মাহফুজ আলমের এই বক্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তার অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে ইতোমধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।





