আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ, বেলা ১১টায় ঘোষণা

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচিত মামলার রায় আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে ঘোষণা করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য বেলা ১১টার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে আজ সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
এর আগে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে আদালতে আনা হয়। একই মামলার অপর আসামি ও সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকে হাজতখানায় রাখা হয়েছে।
আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করবেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।
চার কার্যদিবসেই শেষ বিচারকাজ
গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত আজকের দিন রায়ের জন্য নির্ধারণ করেন। মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যেই মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
এর আগে ১ জুন সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। পরদিন ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ওই দিন ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
পরবর্তীতে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন দুই আসামি।
যেভাবে ঘটে আলোচিত হত্যাকাণ্ড
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের বাসায় নিয়ে যান।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেল রানার ফ্ল্যাটের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। পরে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
সেখানে সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির ভেতরে তার বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় ২০ মে পল্লবী থানায় নিহত শিশুটির বাবা হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হওয়ায় এর রায় নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।





