পুঁজিবাজারে টানা আট কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী, লেনদেন ৯ মাসের সর্বোচ্চ

ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির পর দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ছুটির আগে টানা পাঁচ কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর ঈদের পরবর্তী তিন কার্যদিবসেও সেই ধারা বজায় থাকায় মোট আট কার্যদিবস ধরে বাজারে উত্থান লক্ষ্য করা গেছে।
সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস বুধবার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এর প্রভাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এর সব মূল্যসূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে লেনদেনও বেড়ে প্রায় ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দিনটির শুরু থেকেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়তে থাকে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বগতি স্পষ্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত এ প্রবণতা অব্যাহত থাকে। এতে দাম বাড়ার তালিকা বড় হয় এবং সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার মধ্য দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিন শেষে ডিএসইতে মোট ২৪৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯৮টির দাম কমেছে এবং ৪৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার আধিক্যের ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৪২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৯ পয়েন্টে এবং বাছাই করা ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৫৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।
মূল্যসূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দিনটিতে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৭৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ১ হাজার ৮০ কোটি ৪২ লাখ টাকার তুলনায় ১৯৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা বেশি। এ লেনদেন ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ; সেদিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪০০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ–এও একই ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বাজারটির সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১০৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ১৮৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে। পাশাপাশি প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৩৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
এদিন সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪৮টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ৬৪টির কমেছে এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারটিতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ৮ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ২৭ কোটি ১৯ লাখ টাকার চেয়ে বেশি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং ক্রয়চাপ বাড়ার ফলে পুঁজিবাজারে এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।





