জাতীয় পুরস্কারজয়ী মালায়ালম অভিনেতা সেলিম কুমারের মৃত্যু

জনপ্রিয় মালায়ালম চলচ্চিত্র অভিনেতা সেলিম কুমার আর নেই। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই অভিনেতা শনিবার রাত ১০টার দিকে ভারতের কেরালার কোচির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। দীর্ঘদিন ধরে কিডনির জটিলতা, লিভার সিরোসিস এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। এর আগে তাঁর লিভার প্রতিস্থাপনও করা হয়েছিল।
পারিবারিক সূত্র ও হাসপাতাল-সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় মৃত্যুর একদিন আগে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়। চিকিৎসকরা ডায়ালিসিসসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা দিলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
থিয়েটার থেকে চলচ্চিত্রে উত্থান
সেলিম কুমারের অভিনয়জীবনের শুরু থিয়েটার এবং মিমিক্রির মাধ্যমে। মঞ্চে জনপ্রিয়তা অর্জনের পর ১৯৯৭ সালে ইশতামানু নুরু ভাট্টাম চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর।
এরপর একের পর এক সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি মালায়ালম সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় মুখে পরিণত হন। বিশেষ করে কৌতুকাভিনেতা হিসেবে তাঁর স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলী দর্শকদের কাছে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে সত্যমেব জয়তে, থেনকাসিপট্টিনম, ওয়ান ম্যান শো, মীসা মাধবন এবং কল্যাণরামন।
কমেডির গণ্ডি পেরিয়ে স্বীকৃতি
শুধু কৌতুকাভিনেতা হিসেবেই নয়, গম্ভীর ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন সেলিম কুমার।
আচানুরাংগাথা ভিদু সিনেমায় অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
পরে আদামিন্তে মাকান আবু চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ভারতের মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এই চলচ্চিত্রটি তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
শোকের ছায়া চলচ্চিত্র অঙ্গনে
সেলিম কুমারের মৃত্যুতে মালায়ালম চলচ্চিত্র অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহশিল্পী, নির্মাতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের অভিনয়জীবনে শতাধিক স্মরণীয় চরিত্র উপহার দিয়ে তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তাঁর মৃত্যু মালায়ালম সিনেমার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





