অস্বাভাবিক আচরণ কি খিঁচুনির পূর্বাভাস?

মৃগী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অনেক সময় খিঁচুনির আগে কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখা যায়। এসব লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকলে রোগী ও পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য খিঁচুনির জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের পূর্বলক্ষণকে মূলত ‘অরা’ এবং ‘অটোমেটিজম’ নামে চিহ্নিত করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ধরনের খিঁচুনির ক্ষেত্রে এ লক্ষণগুলো দেখা যায় না। তবে যেসব রোগীর ক্ষেত্রে এগুলো দেখা দেয়, সেগুলো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অরা কী?
অরা হলো খিঁচুনির আগে রোগীর অনুভূত কিছু অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা, যার সঙ্গে বাস্তবতার সরাসরি সম্পর্ক থাকে না। এ সময় রোগী বিভিন্ন ধরনের শারীরিক বা মানসিক পরিবর্তন অনুভব করতে পারেন।
অরার লক্ষণগুলোর মধ্যে থাকতে পারে—
- ঝাপসা দেখা
- কানে অস্বাভাবিক শব্দ শোনা
- জিহ্বায় তিতা স্বাদ অনুভব করা বা নাকে দুর্গন্ধ পাওয়া
- পেটে অস্বস্তি বা ব্যথা
- হাত-পায়ে ঝিনঝিন অনুভূতি
- অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
- মাথা ঘোরা
এ ছাড়া কিছু রোগীর ক্ষেত্রে হঠাৎ চারপাশের পরিবেশকে অতি পরিচিত মনে হতে পারে। মনে হয়, একই পরিস্থিতির মুখোমুখি তিনি আগেও হয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অনুভূতিকে ‘দেজাভু’ বলা হয়।
চিকিৎসকেরা জানান, অরার ধরন খিঁচুনির প্রকৃতি ও উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। অনেক রোগী অরা অনুভব করার পর নিরাপদ স্থানে চলে গিয়ে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে সক্ষম হন।
অটোমেটিজম কী?
অনেক ক্ষেত্রে অরার পরপরই শুরু হয় অটোমেটিজম। এটি এমন একটি অবস্থা, যখন রোগী অবচেতনভাবে কোনো নির্দিষ্ট কাজ বারবার করতে থাকেন।
এর মধ্যে থাকতে পারে—
- বারবার হাততালি দেওয়া
- ঠোঁট কামড়ানো
- হঠাৎ দৌড় দেওয়া
- একই ধরনের ভঙ্গি বা অঙ্গভঙ্গি বারবার করা
পরিবারের সদস্যরা এসব আচরণ লক্ষ্য করলে বুঝতে পারেন যে রোগীর খিঁচুনি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন রোগীকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা সহজ হয়।
কুসংস্কার নয়, প্রয়োজন সচেতনতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খিঁচুনির আগে দেখা দেওয়া এসব অস্বাভাবিক আচরণকে অনেকেই ভুলভাবে অতিপ্রাকৃত ঘটনা বা কুসংস্কারের সঙ্গে যুক্ত করেন। বাংলাদেশে এখনও মৃগী রোগ সম্পর্কে নানা ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে।
তবে অরা ও অটোমেটিজমের পেছনে সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। তাই এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে ভয় বা কুসংস্কারে না ভুগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তথ্যসূত্র: ডা. নাজমুল হক, সহযোগী অধ্যাপক (নিউরোলজি), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল, ঢাকা।





