কেন ব্যতিক্রমী ২০২৬ বিশ্বকাপ, যে পাঁচ কারণে ইতিহাস গড়ছে এবারের আসর

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় উৎসব। তবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়; নানা দিক থেকে এটি হতে যাচ্ছে ইতিহাসের অন্যতম ব্যতিক্রমী ও আলোচিত আসর। প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দল, আয়োজক তিনটি দেশ, বাড়ছে ম্যাচের সংখ্যা ও টুর্নামেন্টের ব্যাপ্তি। পাশাপাশি প্রযুক্তি, বিনোদন ও আয়োজনের নতুনত্ব বিশ্বকাপকে নিয়ে গেছে এক ভিন্ন উচ্চতায়। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, কোন কোন কারণে এবারের বিশ্বকাপ অন্য সব আসরের চেয়ে আলাদা।
প্রথমবার অংশ নিচ্ছে ৪৮ দল
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম ৪৮টি দল অংশগ্রহণ করছে। এর আগে সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপে খেলেছিল ৩২টি দল। নতুন কাঠামো অনুযায়ী ৪৮ দলকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে থাকবে চারটি করে দল। এর ফলে ম্যাচের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপে যেখানে মোট ম্যাচ ছিল ৬৪টি, সেখানে এবার অনুষ্ঠিত হবে ১০৪টি ম্যাচ।
টুর্নামেন্টের সময়কালও বাড়ানো হয়েছে। প্রায় ৩৯ দিন ধরে চলবে বিশ্ব ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ।
প্রথমবার তিন দেশের যৌথ আয়োজন
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম পুরুষদের আসর আয়োজন করছে তিনটি দেশ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। উত্তর আমেরিকার ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচগুলো। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে ১১টি ভেন্যু, মেক্সিকোয় তিনটি এবং কানাডায় দুটি।
কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে শুরু করে সেমিফাইনাল ও ফাইনালসহ সব নকআউট পর্বের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে।
নতুন ইতিহাস গড়বে আজতেকা স্টেডিয়াম
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়াম এবার বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনন্য এক রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে।
১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালের পর ২০২৬ সালেও এই স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ফলে এটি হবে বিশ্বের প্রথম স্টেডিয়াম, যেখানে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরের ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে এই ভেন্যুতে।
ফুটবল ইতিহাসের দুই কিংবদন্তি পেলে ও দিয়েগো ম্যারাডোনার স্মৃতিবিজড়িত এই স্টেডিয়াম ১৯৭০ সালে ব্রাজিল এবং ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের সাক্ষী ছিল। আসরকে সামনে রেখে সম্প্রতি স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে পেলের একটি বিশাল ভাস্কর্যও স্থাপন করা হয়েছে।
গরম নিয়ে শঙ্কা
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আলোচনায় এসেছে আয়োজক দেশগুলোর আবহাওয়া, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহরের তীব্র গরম।
আবহাওয়া বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টুর্নামেন্টের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ম্যাচ এমন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে অতিরিক্ত তাপমাত্রা খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশেষ করে মায়ামি, কানসাস সিটি ও ফিলাডেলফিয়ার মতো শহরগুলোতে উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুলিং ব্রেকসহ বিভিন্ন সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ফিফা।
ফাইনালে থাকছে হাফটাইম সংগীতানুষ্ঠান
২০২৬ বিশ্বকাপের আরেকটি বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে ফাইনালের বিরতিতে বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর সুপার বোলের আদলে এই আয়োজন করা হচ্ছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালের বিরতিতে বিশ্বসংগীতের কয়েকজন শীর্ষ তারকা পরিবেশনা করবেন।
ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী মঞ্চে দেখা যাবে ম্যাডোনা, শাকিরা এবং জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসকে। পুরো আয়োজনের তত্ত্বাবধানে থাকবেন বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড কোল্ডপ্লের প্রধান শিল্পী ক্রিস মার্টিন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফাইনাল ম্যাচের বিরতিতে সংগীতানুষ্ঠান আয়োজনের ঘটনা এবারই প্রথম। এর আগে উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানেই মূলত বিনোদনমূলক আয়োজন সীমাবদ্ধ ছিল।
নতুন দল, নতুন কাঠামো, তিন দেশের যৌথ আয়োজন এবং বিনোদনের অভিনব সংযোজনে ২০২৬ বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত আসরে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের লড়াইও কি আয়োজনের মতোই স্মরণীয় হয়ে ওঠে কি না।





