হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণায় কাঁপছে বিশ্ব জ্বালানি বাজার, তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি দুই ডলারের বেশি বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে ইরান এই নৌপথ বন্ধের ঘোষণা দিলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম আড়াই শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি পঁচানব্বই দশমিক চল্লিশ ডলারে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম প্রায় তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি বিরানব্বই দশমিক তেষট্টি ডলারে উঠেছে।
হরমুজ বন্ধের ঘোষণা ও সতর্কবার্তা
ইরানের সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ড বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজসহ সব ধরনের নৌযানের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। একইসঙ্গে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে যে, কোনো জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করলে তার ওপর গুলি চালানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের নতুন মাত্রা
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার (১০ জুন) গভীর রাতে এই হামলা পরিচালনা করা হয় এবং এটিকে তারা 'ইরানের অযৌক্তিক ও অব্যাহত আগ্রাসনের' জবাব হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এর পাল্টা জবাবে তেহরান বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইরানের হামলার শঙ্কায় কুয়েত ইতিমধ্যে তার আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই নৌপথ বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তীব্র হচ্ছে।





