স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ডেটা খরচ কমানোর ৫টি কার্যকর উপায়

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে স্মার্টফোন ছাড়া এক মুহূর্তও কল্পনা করা কঠিন। আর স্মার্টফোন সচল রাখার প্রধান জ্বালানি হলো ইন্টারনেট ডেটা। কিন্তু অনেকেই অভিযোগ করেন, চড়া দামে ডেটা প্যাক কেনার পরও চোখের পলকে তা শেষ হয়ে যায়। অনেক সময় না জেনেই ব্যাকগ্রাউন্ডে কেটে নেওয়া হয় অতিরিক্ত ডেটা। কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে মাসজুড়ে নিশ্চিন্তে ইন্টারনেট ব্যবহার করা সম্ভব।
১. অটো-আপডেট ও অটো-প্লে বন্ধ রাখুন
আমাদের অজান্তেই প্লে-স্টোর বা অ্যাপ স্টোর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপ আপডেট করার কারণে সবচেয়ে বেশি ডেটা অপচয় হয়। এছাড়া ফেসবুক, ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করার সময় ভিডিও নিজে থেকেই চালু হয়ে যায়, যা অতিরিক্ত ডেটা খরচ করে। সমাধান হলো প্লে-স্টোর বা অ্যাপ স্টোরের সেটিংসে গিয়ে 'অটো-আপডেট অ্যাপস ওভার ওয়াইফাই অনলি' সিলেক্ট করে রাখা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সেটিংস থেকে ভিডিও অটো-প্লে বন্ধ করে দেওয়া।
২. ডেটা সেভার মোড চালু রাখুন
অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস — উভয় অপারেটিং সিস্টেমেই বিল্ট-ইন ডেটা সেভার ফিচার থাকে। এটি চালু থাকলে ব্যাকগ্রাউন্ডে কোনো অ্যাপ অতিরিক্ত ডেটা খরচ করতে পারে না। ফোনের সেটিংস থেকে নেটওয়ার্ক অ্যান্ড ইন্টারনেট অপশনে গিয়ে ডেটা সেভার চালু করে দিন।
৩. ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা সীমিত করুন
কোনো অ্যাপ ব্যবহার না করলেও সেটি ফোনের পেছনে চলতে থাকে এবং ইন্টারনেট ডেটা খরচ করে। হোয়াটসঅ্যাপের বার্তা বা ইমেলের নোটিফিকেশন আসার প্রক্রিয়াটি এভাবেই কাজ করে। যেসব অ্যাপ সবসময় প্রয়োজন নেই — যেমন গেমস বা কেনাকাটার অ্যাপ — সেগুলোর অ্যাপ ইনফোতে গিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা অপশনটি বন্ধ করে দিন।
৪. অ্যাপের লাইট সংস্করণ ব্যবহার করুন
ফেসবুক, মেসেঞ্জার বা ইনস্টাগ্রামের মূল অ্যাপগুলো প্রচুর ডেটা ও স্টোরেজ গ্রাস করে। সীমিত ডেটায় চলতে চাইলে এই অ্যাপগুলোর লাইট সংস্করণ ব্যবহার করুন। এগুলো কম ডেটা খরচ করে দ্রুত লোড হয় এবং ফোনের র্যামের ওপর চাপও অনেকটা কমায়।
৫. ম্যাপ ও মিউজিক অফলাইনে ডাউনলোড করে রাখুন
রাস্তা চিনতে গুগল ম্যাপ বা গান শোনার জন্য স্পোটিফাই ও ইউটিউব মিউজিক প্রতিনিয়ত ব্যবহার করা হয়। প্রতিবার লাইভ স্ট্রিমিং করলে বিপুল পরিমাণ ডেটা খরচ হয়। তাই নিয়মিত যাতায়াতের রাস্তা ও পছন্দের গানের তালিকা ওয়াই-ফাই জোনে থাকার সময় অফলাইনে ডাউনলোড করে রাখুন।
প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার ফোনের ডেটা ব্যবহারের হিসাব চেক করুন। কোন অ্যাপ সবচেয়ে বেশি ডেটা খরচ করছে তা দেখে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে মাসের ইন্টারনেট খরচ ত্রিশ থেকে চল্লিশ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।





