নারায়ণগঞ্জে পশুর হাটের বরাদ্দ চাইলেন আহত জুলাই যোদ্ধারা, প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে কোরবানির পশুর হাট পরিচালনার বরাদ্দ চেয়েছেন আহত জুলাই যোদ্ধারা। একই সঙ্গে অনুমতি না পাওয়া, প্রশাসনিক হয়রানি, চাঁদাবাজি এবং হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ সংগঠনের নেতারা।
মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। এতে জুলাই অভ্যুত্থানে আহত এবং শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন যোদ্ধাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে আহত ও কর্মক্ষমতা হারানো যোদ্ধাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ হিসেবে রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নে একটি কোরবানির পশুর হাট পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এ বিষয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে আবেদন করলে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করে জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশপত্র পাঠান বলে দাবি করেন তারা।
তাদের অভিযোগ, সুপারিশপত্র নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও সাক্ষাতের সুযোগ পাননি। পরে জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছ থেকে কাজ শুরুর আশ্বাস পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের বাইরে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যক্তি তাদের কাছে আগে থেকেই চাঁদা দাবি করছিলেন। পরে কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা হলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং পশুর হাটের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানান বলে অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, প্রশাসনের আশ্বাসের ভিত্তিতে সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের সঞ্চয় এবং সংগৃহীত তহবিলের অর্থ হাট পরিচালনার প্রস্তুতিতে ব্যয় করেছিলেন। কিন্তু পরে উপজেলা প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা হাটের প্রস্তুতি কার্যক্রমে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, চাঁদা দাবিকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে হাটের ব্যানার, সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই যোদ্ধারা বলেন, “যে আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, আজ সেই আন্দোলনের যোদ্ধারাই অপমান, হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছি।”
এ সময় তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, আহত জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পশুর হাট পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার আহ্বানও জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লিটন, নারায়ণগঞ্জ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক কাউছার আহমেদ সুমন, সদস্য সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এবং মো. আল আমিন।





