বিকেলে দল ছাড়ার ইঙ্গিত, রাতে এনসিপি নেতা আমিরুল বহিষ্কার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সদস্যসচিব সর্দার আমিরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে রোববার রাতে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে দলটি।
তবে এর কয়েক ঘণ্টা আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দলের সঙ্গে আর সম্পৃক্ত না থাকার কথা জানিয়েছিলেন আমিরুল ইসলাম। তাঁর ওই ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
দলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৩ মার্চ সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আমিরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং একই সঙ্গে সতর্কও করা হয়। কিন্তু সেই সতর্কবার্তার পরও তিনি পুনরায় দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হন, যা সংগঠনের নীতিমালা ও শৃঙ্খলা বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনার পর দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে তাঁকে সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সদস্যসচিব পদ থেকেও তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে রোববার বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে আমিরুল ইসলাম লিখেছিলেন, গত বছরের জুনে এনসিপির প্রাথমিক লক্ষ্য, আদর্শ ও নীতির প্রতি আস্থা রেখে মধ্যপন্থি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দলটিতে যোগ দিয়েছিলেন।
তিনি দাবি করেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক সময়ে ডানপন্থি জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর আগ্রহে প্রভাব ফেলে। যদিও শুরুতে তিনি এটিকে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেছিলেন এবং জোট থেকে দূরত্ব বজায় রেখেই দলের কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছিলেন।
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, নির্বাচনের পর দলীয় কার্যক্রমে ডানপন্থি প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি মনে করেছেন। এর ফলে গত দুই মাস তিনি রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিজেকে নিষ্ক্রিয় রাখেন এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পদত্যাগপত্রও জমা দেন।
আমিরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, দলের একজন শীর্ষ নেতা তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে দলের বর্তমান কর্মকাণ্ডে নিজের প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে না পাওয়ায় এবং দলীয় রণনীতি ও কৌশল নিয়ে মতপার্থক্য বাড়তে থাকায় তাঁর পক্ষে দলে থাকা আর সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে তিনি এনসিপির প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বিদায় বার্তা দেন।





