গরমে বাইরে কাজ করলে কী পরবেন, কী খাবেন

প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসকেরা সাধারণত তীব্র গরমে অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া বা বেশি শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। কিন্তু যাঁদের পেশাগত কারণেই বাইরে থাকতে হয়, তাঁদের জন্য বাড়তি সতর্কতা জরুরি। সামান্য অসতর্কতায় দেখা দিতে পারে পানিশূন্যতা, ক্লান্তি বা হিটস্ট্রোকের মতো সমস্যা।
পোশাকে স্বস্তি ও সুরক্ষা
বাইরে কাজের সময় হালকা রঙের, নরম সুতি ও ঢিলেঢালা পোশাক সবচেয়ে উপযোগী। এতে শরীরে বাতাস চলাচল সহজ হয় এবং ঘাম কম অস্বস্তিকর লাগে। নতুন কাপড়ের চেয়ে কিছুটা ব্যবহৃত নরম কাপড় বেশি আরামদায়ক হতে পারে।
অনেকের ধারণা, গরমে হাফহাতা বা ছোট পোশাক আরাম দেয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফুলহাতা জামা এবং ফুলপ্যান্ট বা পায়জামা শরীরকে সরাসরি রোদ থেকে সুরক্ষা দেয়। মাথা ঢাকতে ছাতা, ক্যাপ, টুপি, গামছা বা রুমাল ব্যবহার করা যেতে পারে।
ঘাম হলে দ্রুত মুছে ফেলা উচিত। প্রয়োজনে রুমাল বা কাপড় ভিজিয়ে শরীর মুছে নিলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।
পানি ও তরল খাবারে নজর
গরমে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে বের হওয়ার সময় সঙ্গে পানির বোতল রাখা ভালো। পানিকে দীর্ঘ সময় ঠান্ডা রাখতে চাইলে আগে থেকে বোতলে বরফ দেওয়া যেতে পারে। প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে থার্মোফ্লাস্ক নিরাপদ ও কার্যকর হতে পারে।
ফলের রস, ডাবের পানি কিংবা রসালো ফল শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক। কারণ ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে শুধু পানি নয়, প্রয়োজনীয় লবণও বেরিয়ে যায়। তাই অতিরিক্ত ঘাম হলে পানির সঙ্গে অল্প লবণ মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। ওরস্যালাইন বা ইলেকট্রোলাইট পানীয়ও উপকারী হতে পারে।
যাঁদের বেশি শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়, তাঁরা পানীয়তে সামান্য চিনি যোগ করতে পারেন।
পানিশূন্যতা বুঝবেন যেভাবে
প্রতিদিন সবার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি নির্ধারণ করা কঠিন। তবে শরীরের সংকেত দেখে প্রয়োজন বোঝা যায়। প্রস্রাবের রং যদি খড়ের মতো হালকা হয়, তাহলে তা স্বাভাবিক। গাঢ় রঙের এবং কম পরিমাণে প্রস্রাব হলে বুঝতে হবে শরীরে পানির ঘাটতি রয়েছে। আবার অতিরিক্ত সাদা বা বেশি পরিমাণ প্রস্রাব হলে পানি কিছুটা কমানো যেতে পারে।
নিজেকে ঠান্ডা রাখার উপায়
দীর্ঘ সময় রোদে টানা কাজ না করে মাঝেমধ্যে ছায়ায় বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। সঙ্গে হাতপাখা বা রিচার্জেবল ফ্যান রাখা যেতে পারে।
মাথায় ভেজা রুমাল ব্যবহার করলে কিছুটা আরাম পাওয়া যায়। মাঝেমধ্যে চোখে-মুখে পানি ছিটিয়ে নেওয়া বা ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে নেওয়াও উপকারী। শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে ঘাড়, বগল বা কুঁচকিতে বরফ ব্যবহার করলে দ্রুত শরীরের তাপমাত্রা কমতে পারে।
গরমে খাদ্যাভ্যাসেও সতর্কতা
গরমের দিনে তরমুজ, বাঙ্গি, বেল, শসা, কাঁচা আম ও পেয়ারার মতো রসালো ফল ভালো পছন্দ হতে পারে। খাবারে কম তেল ও কম মসলাযুক্ত হালকা রান্না বেছে নেওয়া ভালো। পাতলা ডাল, মাছের ঝোল, সবজি এবং আমের টকও উপকারী হতে পারে।
চা-কফি, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা ভারী খাবার শরীরকে আরও অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে। তাই গরমে এসব খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়াই ভালো।





