'কাঁটা লাগা'র শেফালী কি সত্যিই ইনজেকশনে মারা গেছেন? অবশেষে মুখ খুললেন স্বামী পরাগ

মাত্র ৪২ বছর বয়সে হঠাৎ চলে যাওয়া — শেফালী জরিওয়ালার মৃত্যু বলিউডকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু শোকের চেয়েও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল নানা গুজব, নানা জল্পনা। সেই জল্পনার জবাব দিতে এবার সরাসরি মুখ খুললেন তাঁর স্বামী পরাগ ত্যাগী।
'কাঁটা লাগা' গানটি একসময় গোটা ভারতে ঝড় তুলেছিল। সেই গানের মাধ্যমেই বলিউডে আলোচনায় আসেন শেফালী জরিওয়ালা। পরবর্তীতে 'বিগ বস ১৩'-তে অংশগ্রহণ করে আবারও দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন তিনি। ২০২৫ সালের জুন মাসে মাত্র ৪২ বছর বয়সে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু ভক্তদের গভীর শোকে ডুবিয়ে দেয়।
মৃত্যুর পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নানা দাবি। একটি বিশেষ গুজব দ্রুত ভাইরাল হয় — বয়স ধরে রাখার ইনজেকশন নেওয়ার কারণেই নাকি মৃত্যু হয়েছে শেফালীর। এই দাবি ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর অবশেষে সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন ভিডিওবার্তায় মুখ খুললেন পরাগ ত্যাগী।
পরাগ বলেন, "আমাকেও বলুন — কোন ইনজেকশনের কথা বলা হচ্ছে? শেফালী নিয়মিত কোনো অ্যান্টি-এজিং ওষুধ নিত না।" তিনি জানান, মাসে একবার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শেফালী মাল্টিভিটামিন, ভিটামিন সি, কোলাজেন এবং গ্লুটাথিয়নের আইভি ড্রিপ নিতেন। পরাগের দাবি, এগুলো সাধারণ স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ব্যবহৃত সম্পূরক উপাদান, কোনো বিশেষ বয়স-নিয়ন্ত্রণকারী ইনজেকশন নয়।
মৃত্যুর দিন খালি পেটে ইনজেকশন নেওয়ার যে দাবি ছড়িয়েছিল, সেটিও সরাসরি নাকচ করেন পরাগ। তাঁর ভাষ্যে, সেদিন শেফালী উপবাস করলেও পূজার পর খাবার খেয়েছিলেন। ফলে খালি পেটের প্রশ্নই ওঠে না।
শেফালীর সুস্বাস্থ্য ও তারুণ্যের রহস্য সম্পর্কে পরাগ জানান, এর পেছনে ছিল নিয়মিত ব্যায়াম, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং নিজের শরীরের প্রতি সচেতন যত্ন। তিনি বলেন, "ও কখনো নিজেকে খাওয়াদাওয়া থেকে বঞ্চিত করেনি। আইসক্রিম, চাইনিজ খাবার — সবই খেত। তবে পরিমিতভাবে।" ভিডিওর শেষে পরাগ সবার কাছে আবেদন জানান, যাচাই না করে কোনো তথ্য যেন ছড়িয়ে দেওয়া না হয়।
শেফালী জরিওয়ালার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও সরকারিভাবে বিস্তারিত প্রকাশিত হয়নি। তবে এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। পরাগের এই ভিডিওবার্তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকে তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন, অনেকে আবার প্রশ্ন তুলেছেন তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে।
একজন প্রিয় শিল্পীর মৃত্যুর পর গুজব নয়, সত্য তথ্যই হোক তাঁর প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পথ।





