ইরান যুদ্ধবিরতির পর গাজায় হামলা বাড়িয়েছে ইসরায়েল, হামাস পুনর্গঠনের দাবি তেল আবিবের

ইরানের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযান স্থগিতের পর গত পাঁচ সপ্তাহে গাজায় হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, এই সময়ের মধ্যে হামাস গাজায় নিজেদের শক্ত ঘাঁটি পুনর্গঠন এবং অস্ত্র সংগ্রহের কাজ জোরদার করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮ এপ্রিল ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় নতুন করে ব্যাপক হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে এখন আবারও সংঘাতের তীব্রতা বাড়ছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধবিরতির পর থেকে গাজায় অন্তত ১২০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন নারী ও ১৩ জন শিশু রয়েছে। এই সংখ্যা যুদ্ধবিরতির আগের পাঁচ সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে, মার্চের তুলনায় এপ্রিল মাসে গাজায় ইসরায়েলি হামলার সংখ্যা প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। সংস্থাটি বিভিন্ন সংঘাত ও সামরিক হামলার তথ্য পর্যবেক্ষণ করে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় নতুন করে হামলা বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ও পুনর্গঠন পরিকল্পনার অগ্রগতিতে বড় ধরনের স্থবিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
খান ইউনিসের একটি অস্থায়ী তাঁবু শিবিরে আশ্রয় নেওয়া ৩৬ বছর বয়সী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ফিলিস্তিনি লাফি আল-নাজ্জার বলেন, “যুদ্ধ এখনো চলছে। ঘোষণায় হয়তো যুদ্ধ থেমেছে বলা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে এবং মাটির পরিস্থিতিতে যুদ্ধ থামেনি।”
গত ২৮ এপ্রিল এক ইসরায়েলি হামলায় তার এক ছেলে নিহত হয়। একসময় গাজার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হিসেবে পরিচিত খান ইউনিস এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
গাজায় হামলা বাড়ানোর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেয়নি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে দেশটির প্রতিরক্ষা খাতের চার কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সেনাবাহিনী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে সতর্ক করেছে যে হামাস আবারও সংগঠিত হচ্ছে এবং অস্ত্র তৈরির কার্যক্রম জোরদার করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা বলেন, গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েলকে তাৎক্ষণিক হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয়। তিনি জানান, পরিস্থিতি যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে ধরে নিয়ে সেনাবাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। গাজায় পুনরায় বড় পরিসরে যুদ্ধ শুরুর সম্ভাবনাও বিবেচনায় রেখে সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, যদিও এখনো সে ধরনের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।





