চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি নিয়ে বিরোধ, এনসিপির ২২ নেতার পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্য ঘোষিত চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি ঘিরে দলটির অভ্যন্তরে বড় ধরনের অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ‘অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদায়নের’ অভিযোগ তুলে একযোগে পদত্যাগ করেছেন ২২ জন নেতা-কর্মী।
শুক্রবার (১৫ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে পদত্যাগকারী নেতাদের নাম প্রকাশ করা হয়। পরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নবগঠিত কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাফসান জানি রিয়াজ।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ১৬৮ সদস্যবিশিষ্ট চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মীর মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক এবং আরিফ মঈনুদ্দীনকে সদস্যসচিব করা হয়। কমিটি ঘোষণার পরপরই দলীয় অভ্যন্তরে এই বিরোধ সামনে আসে।
পদত্যাগকারী নেতাদের অভিযোগ, নতুন কমিটিতে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় থাকা ও ত্যাগ স্বীকার করা কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তাদের দাবি, অর্থের বিনিময়ে ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।
পদত্যাগকারীদের তালিকায় রয়েছেন সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল হাসান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ, ডা. মাহতাব উদ্দিন আহমদ, দপ্তর সম্পাদক রাফসান জানি রিয়াজ, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ এহছানুল হক ও কামরুল কায়েসসহ আরও ১৮ জন নেতা-কর্মী।
রাফসান জানি রিয়াজ বলেন, “আদর্শ ও স্বচ্ছ রাজনীতির প্রত্যাশা নিয়ে আমরা এনসিপিতে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু নতুন কমিটিতে নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িত ব্যক্তি, সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং রাজনীতিতে সক্রিয় নন—এমন ব্যক্তিদের পদ দেওয়া হয়েছে। অথচ যারা দীর্ঘদিন রাজপথে কাজ করেছেন, তাদের মূল্যায়ন হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রামে এনসিপির কার্যক্রম শুরুর সময় অল্পসংখ্যক মানুষ পাশে ছিল। সময়ের সঙ্গে সেই সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছেছে। কিন্তু শুরু থেকে যারা কাজ করেছেন, তাদের অনেককেই এবার মূল্যায়ন করা হয়নি। এ বিষয়ে কেন্দ্রে অনাস্থাপত্র ও পদত্যাগপত্র পাঠানো হয়েছে। অনাস্থার বিষয়টি বিবেচনায় না এলে পদত্যাগ কার্যকর হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, বড় একটি কমিটিতে সবার প্রত্যাশা পূরণ করা সব সময় সম্ভব হয় না। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কারণে কিছু অসন্তোষ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে আলোচনা ও সমাধানের সুযোগ এখনো রয়েছে।
সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দীনও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দলের নীতিমালার বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভুল বোঝাবুঝি কাটিয়ে পদত্যাগকারী নেতারা আবারও দলে সক্রিয় হবেন।





