আলিয়াকে ঘিরে ট্রল বিতর্কে ক্ষোভ আমিশা প্যাটেলের

কান চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ট্রলিংয়ের মুখে পড়েন বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। এ ঘটনায় নেটমাধ্যমে নানা আলোচনা তৈরি হলেও তাঁর সমর্থনে এবার সরব হয়েছেন অভিনেত্রী আমিশা প্যাটেল। তারকাদের উদ্দেশ্য করে সামাজিক মাধ্যমে নেতিবাচক আচরণের সমালোচনা করেছেন তিনি।
সম্প্রতি কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় হাঁটার সময় আলিয়া ভাটকে পাপারাজ্জিরা উপেক্ষা করেছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন একাংশের ব্যবহারকারী। এরপর বিষয়টি ঘিরে তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও ট্রল শুরু হয়। যদিও অনেকেই অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থনও জানিয়েছেন।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আমিশা প্যাটেল মানুষের মধ্যে ঐক্যের অভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি লেখেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে যে সমাজে অন্যকে ছোট করার প্রবণতা বাড়ছে। আমরা নিজেদের একতাবদ্ধ জাতি হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তবে সেই চিত্র কতটা সত্য, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ভারতীয় তারকাদের সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত সমালোচনার মুখে পড়তে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আমিশা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেশের মানুষ নিজেদের তারকাদের যেভাবে ট্রল করেন, তা অন্য দেশের তুলনায় বেশি দুঃখজনক।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক কোনো বড় আয়োজনে কোনো ভারতীয় তারকার পোশাক, উপস্থিতি বা চেহারা নিয়ে নিজের দেশের মানুষের কাছ থেকেই নেতিবাচক মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
আমিশার এই পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক অনুরাগী ধারণা করেন, তিনি সম্ভবত কান চলচ্চিত্র উৎসবকে ঘিরে আলিয়া ভাটের সাম্প্রতিক ট্রল হওয়ার ঘটনাটির প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন।
এর আগে আলিয়া ভাট নিজের কান উৎসবের একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করলে এক ব্যবহারকারী হাসির প্রতীক ব্যবহার করে মন্তব্য করেন, ‘কী দুঃখজনক, আপনাকে কেউ খেয়ালই করেনি।’
তবে এ মন্তব্যের জবাব শান্ত ও রসিক ভঙ্গিতে দেন আলিয়া। তিনি লেখেন, ‘দুঃখ কেন? আপনি তো আমাকে খেয়াল করেছেন।’
আলিয়ার এ জবাব দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ট্রলিংয়ের পরিস্থিতি সংযতভাবে সামাল দেওয়ার জন্য অনেকেই তাঁর প্রশংসা করেন।
এদিকে আলিয়ার মা সোনি রাজদানও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক পোস্টে তিনি লেখেন, সামাজিক মাধ্যম ভালোবাসা, তথ্য ও বিনোদনের পাশাপাশি প্রচুর নেতিবাচকতাও বহন করে। তাঁর মতে, এসব বিষয় সমাজের মানসিকতা ও আচরণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে, যা ভবিষ্যতে গবেষণা ও আলোচনারও বিষয় হতে পারে।






