চলতি অর্থবছরে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার থেকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ার ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে ডলার সংগ্রহ করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৮ মে পর্যন্ত মোট ৫৯৮ কোটি ডলার কেনা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে আরও ১০ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে জ্বালানি, সার ও খাদ্যপণ্য আমদানির ব্যয় মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
তবে চলতি অর্থবছরের শুরুতে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয় বাড়ার ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবার বাজার থেকে ডলার কেনা শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী আয়ের বিপরীতে অর্থের জোগান নিশ্চিত করা এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার তুলে নিচ্ছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করাও এ পদক্ষেপের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৪ মে পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৫ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ২৯ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এক বছর আগে এ পরিমাণ ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলার।
তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ। তাঁদের মতে, বাজারে ডলারের দাম আরও কমতে দেওয়া হলে তা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত।





