২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে দেশে এল জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে প্রথম একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ নামের জাহাজটি।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা যায়, সিঙ্গাপুরভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানি ভিটল এই চালান সরবরাহ করেছে, যা মালয়েশিয়া থেকে আনা হয়েছে।
সরকারি তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড জাহাজটি থেকে অকটেন খালাস ও বাজারে সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহীরুল হাসান জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে অকটেনের বড় ধরনের কোনো সংকট নেই। নতুন এই চালানসহ আরও একটি জাহাজ পৌঁছেছে, যা দ্রুত খালাস করা হবে। আগামী দুই দিনের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা।
অকটেন মূলত মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাসের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অকটেনের সংকট দেখা দেয়। অনেক স্থানে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও গ্রাহকরা অকটেন পাননি, আবার কোথাও ‘অকটেন নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে। এক মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তবে নতুন করে সরবরাহ বাড়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিপিসি দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি আমদানিকারক সংস্থা। তাদের প্রকাশনা ‘বিপিসি বাতায়ন’ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট জ্বালানি সরবরাহের মধ্যে অকটেনের অংশ ছিল ৬ শতাংশ। একই সময়ে দেশে প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার টন অকটেন বিক্রি হয়েছে, যার প্রায় অর্ধেক স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এবং বাকিটা আমদানি করা।
সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে অকটেনের মজুত ছিল ১০ হাজার ৫২৬ টন। মার্চ মাসে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ২২২ টন অকটেন বিক্রি হলেও সরবরাহ সংকটের কারণে এপ্রিলে তা কমে গড়ে ১ হাজার ১১৪ টনে নেমে এসেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর মার্চ মাসে ডিজেল, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস তেল নিয়ে মোট ১০টি জাহাজ দেশে এলেও নির্ধারিত আরও ৭টি জাহাজ আসতে পারেনি। এছাড়া গত মাসে অকটেনবাহী কোনো জাহাজ আসার সূচি ছিল না। নতুন চালান আসায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।






