‘আবারও চমকে দিলেন তুষি’

রেদওয়ান রনির ‘আইসক্রিম’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করলেও মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’ চলচ্চিত্রই নাজিফা তুষিকে এনে দেয় আলাদা পরিচিতি। সেই ছবির পর থেকেই তিনি বেছে বেছে কাজ করছেন। সিনেমা মুক্তির আগে সীমিত প্রচারণা ছাড়া গণমাধ্যমেও তাঁর উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। তবে এবারের ঈদের সিনেমা ‘রইদ’ মুক্তির প্রথম দিনেই স্টার সিনেপ্লেক্সে দেখা মিলল এই অভিনেত্রীর। সেখানে তিনি কথা বলেন ‘রইদ’-এ অভিনয়ের অভিজ্ঞতা, প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে।
মুক্তির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রইদ’ সিনেমায় তুষির অভিনয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সাধুর বউ ‘পাগলি’ চরিত্রে তাঁর সংযত অভিনয়, চোখের ভাষা এবং গ্রামীণ নারীর আবহ ফুটিয়ে তোলার বিষয়টি দর্শকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন, ‘হাওয়ার পর আবারও চমকে দিলেন তুষি।’ আবার কেউ কেউ বলছেন, এই ধরনের চরিত্রে তাঁকে আলাদা করে মানিয়ে যায়। চলচ্চিত্রপ্রেমীদের একটি বড় অংশের মতে, প্রচলিত নায়িকার গণ্ডি ভেঙে তুষি ধীরে ধীরে নিজের অভিনয়ধারা গড়ে তুলছেন।
তুষির মতে, পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমনের সঙ্গে কাজ করা যেকোনো শিল্পীর জন্যই বিশেষ অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, তাঁর কাজের ধরন অন্যরকম। সবকিছু বাস্তবতার খুব কাছাকাছি রেখে তিনি কাজ করেন। চরিত্রকে আলাদা করে চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বরং তিনি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেন, যেখানে অভিনেতার ভেতর থেকে স্বাভাবিকভাবেই অভিনয় বেরিয়ে আসে।
এই সিনেমার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে গিয়ে বাহ্যিক রূপ বদলের চেয়ে চরিত্রের মনস্তত্ত্ব বোঝার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তুষি। তিনি জানান, গ্রামীণ নারীর আবহ তৈরি করতে তাঁরা স্থানীয় বাজার থেকে ব্যবহৃত কাপড় কিনে ব্যবহার করেছেন। শুটিংয়ের সময় ব্যক্তিগত কোনো পোশাক বা অনুষঙ্গ ব্যবহার করা হয়নি। তবে তাঁর মতে, পোশাক বা বাহ্যিক সাজসজ্জা আসলে খুব ছোট একটি অংশ।
তুষি বলেন, বাহ্যিক পরিবর্তন যেমন কালো হওয়া বা কম আকর্ষণীয় দেখানো খুব কঠিন কিছু নয়। আসল বিষয় হলো চরিত্রের মানসিক অবস্থাকে উপলব্ধি করা। যে জগতের মধ্যে চরিত্রটি বাস করে, সেই অনুভূতিকে ধারণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মুক্তির আগে ‘রইদ’ নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি প্রচলিত বিনোদনধর্মী সিনেমা নয়। তাঁর ভাষায়, ‘হাওয়ার মতো সিনেমা আশা করলে বলব, এটি আরও অনুভবনির্ভর একটি কাজ। এখানে প্রতিটি অনুভূতির আলাদা সৌন্দর্য রয়েছে। এটি ধীরগতির, গভীর আবেগের একটি সিনেমা। গানগুলোও সেই আবহেই তৈরি।’
অভিনয়ের পাশাপাশি এই সিনেমায় কণ্ঠ দিয়েছেন তুষি। ‘পাগলির প্রেম জ্বালা’ শিরোনামের গানটি ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, মূলত তিনি অভিনয়ের মানুষ হলেও গান সবসময় তাঁর ভেতরের একটি ভালোবাসার জায়গা। তবে গানটি গাওয়ার প্রস্তাব পেয়ে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন—দর্শক তাঁকে গায়িকা হিসেবে গ্রহণ করবেন কি না, তা নিয়ে।
গানটি প্রকাশের পর দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে। বিশেষ করে রবীন্দ্রসরোবরে গানটি পরিবেশনের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দর্শকদের ভালোবাসা তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, গানটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পেরেছে। ‘রইদ’-এর গল্প, আবহ এবং সংগীত—সবই মাটির কাছাকাছি, আর সেই অনুভূতি থেকেই তিনি গানটি গাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
শুধু ‘রইদ’ নয়, ধারাবাহিকভাবে ভিন্নধর্মী কাজ দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করছেন তুষি। গত ঈদে মুক্তি পাওয়া রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমায় রেশমা চরিত্রে তাঁর অভিনয়ও প্রশংসিত হয়েছে। চরিত্রের ভেতরের চাপ, সংযম এবং আবেগের ভাঙন ফুটিয়ে তোলার দক্ষতা দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়ে। তবে ‘রইদ’-এ এসে তিনি আগের কাজকেও ছাড়িয়ে গেছেন বলে মনে করছেন অনেকে।
বর্তমানে তুষি ব্যস্ত শিবব্রত বর্মনের ছোটগল্প অবলম্বনে নির্মিতব্য রবিউল আলম রবির ‘সুরাইয়া’ সিনেমার শুটিং নিয়ে। অন্যদিকে পাঁচ বছর বিরতির পর নতুন কাজ নিয়ে ফিরছেন নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ। তাঁর সিরিজ ‘অ্যানি’-তেও রয়েছেন তুষি। সিরিজটি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ উৎসব ‘সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যাল’-এর ‘উইমেন ইন সিরিজ’ বিভাগে বিশ্ব প্রিমিয়ারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
এ ছাড়া ‘আন্ধার’ ও ‘সখী রঙ্গমালা’সহ তাঁর আরও কয়েকটি কাজ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। নতুন একটি সিনেমার কাজও শুরু করেছেন তিনি। তবে আপাতত তাঁর পুরো মনোযোগ ‘রইদ’ সিনেমাকে ঘিরেই।






