গাবতলীতে দূরপাল্লার বাসে এখনও মিলছে টিকিট

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে নাড়ির টানে গ্রামে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল-এ, যেখানে সোমবার সকাল থেকেই ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। একের পর এক দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যাওয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
তবে ঈদযাত্রার চিরাচরিত চাপ থাকলেও এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। কিছু রুটের জনপ্রিয় পরিবহনে ‘আসন খালি নেই’ লেখা প্ল্যাকার্ড ঝুলতে দেখা গেলেও অধিকাংশ বাসেই তাৎক্ষণিক টিকিট এবং খালি আসন পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বড় ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যে রওনা হতে পারছেন।
সোমবার (২৫ মে) সকালে টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে যাত্রীরা এসে ভিড় জমাচ্ছেন। কাউন্টারগুলোতে টিকিটপ্রত্যাশীদের ভিড় থাকলেও কোথাও কোথাও পরিবহন কর্মীদের যাত্রী ডাকতে দেখা গেছে। আবার কয়েকটি কাউন্টারের সামনে ‘আসন খালি নেই’ সাইনবোর্ডও ঝুলছিল।
টার্মিনালের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ঈগল পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মোহাম্মদ আলী বলেন, পদ্মা সেতু হয়ে চলাচলকারী অধিকাংশ বাসই যাত্রীপূর্ণ অবস্থায় ছেড়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ছেড়ে যাওয়া গাড়িগুলোর মধ্যে মাত্র কয়েকটিতে অল্প কিছু আসন খালি ছিল। তবে পরবর্তী ট্রিপের কিছু বাসে এখনো আসন পাওয়া যাচ্ছে।
এস বি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার আলাল জানান, আজকের বেশিরভাগ বাসেই আর আসন খালি নেই। তবে আগামী দিনের কিছু বাসে এখনো টিকিট পাওয়া যাচ্ছে।
গোল্ডেন লাইন পরিবহনের কর্মী আলী আজগর বলেন, সকাল থেকে প্রায় ৩০টি বাস ছেড়ে গেছে, যার অধিকাংশই পূর্ণ ছিল। দিনশেষে আরও অন্তত ১০টি বাস ছাড়ার কথা রয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই আগেই বুকিং হয়ে গেছে।
যাত্রীদের অভিজ্ঞতাও মোটামুটি স্বস্তিদায়ক। রংপুরগামী নজরুল হোসেন বলেন, কাউন্টার থেকে সহজেই টিকিট পেয়েছেন, তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। অন্যদিকে পাবনাগামী আমিনুল ইসলাম জানান, পছন্দের বাসের টিকিট না পেলেও বিকল্প পরিবহনে টিকিট কিনতে পেরেছেন এবং এখনো পর্যন্ত কোনো ভোগান্তি হয়নি।
সব মিলিয়ে ঈদযাত্রার চাপ থাকলেও গাবতলীতে এখনো টিকিট পাওয়া যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।





