ভারতের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর, ‘মানচিত্র বদলে যাওয়ার’ হুঁশিয়ারি

ভারত ভবিষ্যতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিলে তার কঠোর পরিণতি হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি বলেছেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ভারতের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
খাজা আসিফ বলেন, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর ভারত নিজেদের অবস্থান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, গত ২২ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত চলা সামরিক সংঘাতের পর ভারতের সামরিক নেতৃত্ব নতুন করে নিজেদের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত বছরের এপ্রিলের সংঘাতের সময় তারা ‘অপারেশন বুনইয়ান-উম-মারসুস’ নামে একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। দেশটির দাবি অনুযায়ী, ওই অভিযানে ভারতের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল এবং কয়েকটি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। তবে এসব দাবির বিষয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান রয়েছে।
প্রায় ৮৭ ঘণ্টাব্যাপী সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত ১০ মে দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় বলে জানানো হয়।
খাজা আসিফ বলেন, একটি রাষ্ট্র হিসেবে ভারত নিজেদের মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছে। তাঁর ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময় আন্তর্জাতিক পরিসরেও ভারত কিছু কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
এ সময় দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আগের তুলনায় পরিবর্তিত হয়েছে বলে তাঁর ধারণা।
অন্যদিকে, পাকিস্তান বর্তমানে এ অঞ্চলে নিজেদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে দেখছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, এ পরিবর্তন ভারতের জন্য সহজভাবে গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে পাকিস্তানবিরোধী কোনো সমন্বয় রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে খাজা আসিফ বলেন, দুই দেশের কৌশলগত স্বার্থের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে মিল থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।





