তীব্র গরমে বাইরে থেকে ফিরে কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

তীব্র গরম আর কড়া রোদের কারণে জনজীবন ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যারা কাজের প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকেন, তাদের জন্য গরমের প্রভাব আরও বেশি। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে হিট স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ, পানিশূন্যতা এবং হজমজনিত সমস্যার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
এমন পরিস্থিতিতে বাইরে যাওয়ার আগে এবং রোদ থেকে ফিরে সঠিক খাবার নির্বাচন করলে শরীর দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে। কিছু খাবার ও পানীয় শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি হারানো শক্তি ফিরিয়ে আনতেও সাহায্য করে।
পাকা পেঁপে বা কলা
রোদ থেকে ফিরে পাকা পেঁপে কিংবা কলা খাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে কলায় থাকা পটাশিয়াম গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়া প্রয়োজনীয় খনিজের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এটি দ্রুত শক্তি জোগায়।
পর্যাপ্ত পানি ও ডাবের পানি
পুষ্টিবিদদের মতে, গরমের সময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে বের হওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে এক থেকে দুই গ্লাস পানি পান করা ভালো।
এছাড়া ডাবের পানি প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইটের অন্যতম ভালো উৎস। বাইরে থেকে ফিরে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে ডাবের পানি পান করলে শরীরের হারানো খনিজ লবণ দ্রুত পূরণ হতে পারে।
পান্তা ভাত
গরমের দিনে পান্তা ভাত শরীর ঠান্ডা রাখতে কার্যকর একটি খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। সকালে এটি খেলে শরীর অনেকটা স্বস্তি পেতে পারে। যদি ভারী খাবার খাওয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবারের পরিবর্তে হালকা খাবার বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
লেবুর শরবত বা ঘোল
সামান্য লবণ ও চিনি মিশিয়ে তৈরি লেবুর শরবত কিংবা ঠান্ডা টক দইয়ের ঘোল গরমের দিনে উপকারী পানীয় হতে পারে। এগুলো শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
বেল বা আমপোড়ার শরবত
গরমের সময়ে বেলের শরবত ও আমপোড়ার শরবত বেশ জনপ্রিয়। এ ধরনের পানীয় শরীরকে সতেজ রাখার পাশাপাশি অতিরিক্ত গরমজনিত সমস্যার ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
পানিসমৃদ্ধ ফল
তরমুজ ও শশার মতো ফল গরমের সময়ে বেশ উপকারী। এসব ফলে ৯০ শতাংশেরও বেশি পানি থাকে। বাইরে যাওয়ার আগে কয়েক টুকরো তরমুজ বা একটি শশা খেলে দীর্ঘ সময় শরীর আর্দ্র থাকতে পারে।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলা ভালো
গরমের সময়ে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোমল পানীয় বা প্যাকেটজাত ফলের রস এড়িয়ে চলাই ভালো। এগুলো সাময়িকভাবে তৃষ্ণা কমালেও শরীরের পানির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
একইভাবে অতিরিক্ত চা বা কফি পান করাও ঠিক নয়। কারণ এতে থাকা ক্যাফেইন শরীরে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।





