কিডনিতে পাথর: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধে যা জানা জরুরি

কিডনিতে পাথর বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে পরিচিত। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি বৃক্কপাথর নামে পরিচিত। কিডনির ভেতরে খনিজ ও লবণজাতীয় উপাদান জমে শক্ত পদার্থ তৈরি হলে সেটিকে কিডনির পাথর বলা হয়। সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে এটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
কিডনিতে পাথর কী?
কিডনির ভেতরে খনিজ ও লবণের মিশ্রণে তৈরি হওয়া কঠিন পদার্থকে কিডনির পাথর বলা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি বিভিন্ন নামে পরিচিত, যেমন—রেনাল ক্যালকুলি, নেফ্রোলিথিয়াসিস ও ইউরোলিথিয়াসিস।
প্রধান লক্ষণ
কিডনিতে পাথরের উপসর্গ পাথরের আকার ও অবস্থানের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে—
- কোমর, তলপেট বা উরুর আশপাশে তীব্র ব্যথা
- প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি
- প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া
- বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
- ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ
- শরীরে পানিশূন্যতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট আকারের পাথর অনেক সময় দীর্ঘদিন কোনো উপসর্গ ছাড়াই শরীরে থাকতে পারে।
কেন হয় কিডনিতে পাথর?
কিডনিতে পাথর তৈরির পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে—
- পর্যাপ্ত পানি পান না করা
- অতিরিক্ত লবণ ও চিনি গ্রহণ
- ক্যালসিয়াম অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া
- অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
- উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস
- শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
- কিছু সংক্রমণ ও চিকিৎসাজনিত কারণ
চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথর সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
ঝুঁকি কতটা?
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন মানুষের মধ্যে অন্তত একজন জীবনের কোনো না কোনো সময় কিডনিতে পাথরজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন।
প্রতিরোধে করণীয়
কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি কমাতে কিছু অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—
- প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা
- সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ
- অতিরিক্ত লবণ ও চিনি কম খাওয়া
- নিয়মিত শরীরচর্চা করা
- ধূমপানসহ ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার করা
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ গ্রহণ না করা
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত, বমি বা প্রস্রাবের সমস্যার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে কিডনির কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।






