বর্ষায় পিছলে পড়ে আঘাতের ঝুঁকি, কীভাবে থাকবেন নিরাপদ

বর্ষাকালে প্রকৃতিতে স্বস্তি ফিরলেও বেড়ে যায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি। বৃষ্টির কারণে রাস্তা, ফুটপাত ও সিঁড়ি পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় হঠাৎ পিছলে যাওয়ার ঘটনা বাড়ে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এমন দুর্ঘটনা গুরুতর শারীরিক জটিলতার কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের পুনের অ্যাপোলো হাসপাতালের অর্থোপেডিকস, স্পোর্টস ইনজুরি ও রোবোটিক জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট বিশেষজ্ঞ ডা. নিশিত জয়ন্ত শাহ বলেন, বর্ষাকালে পড়ে যাওয়ার ফলে হাড় ভাঙা, লিগামেন্টে আঘাত এবং দীর্ঘমেয়াদি চলাফেরাজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না নিলে এসব জটিলতা আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির পানি রাস্তাঘাট, সিঁড়ি ও খেলার মাঠকে পিচ্ছিল করে তোলে। ফলে শারীরিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিরা এ সময়ে গোড়ালি মচকানো, হাঁটুতে আঘাত কিংবা পা মোচড় খাওয়ার মতো সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হন।
ডা. শাহ বলেন, বর্ষাকালে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় গোড়ালি মচকে যাওয়ার ঘটনা। অসমতল বা ভেজা স্থানে হাঁটার সময় পা হঠাৎ মোচড় খেলে এমন আঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়। খেলাধুলা বা দৌড়ানোর সময় হঠাৎ দিক পরিবর্তনের কারণেও হাঁটুর লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি রাস্তার ঘর্ষণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় মোটরসাইকেল ও সাইকেল দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।
এ ধরনের আঘাতের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জোড়ায় ব্যথা, ফোলাভাব, হাঁটতে অসুবিধা, অস্থিসন্ধিতে অস্বস্তি, কালশিটে দাগ এবং শরীরের ভারসাম্যহীনতা অনুভব করা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স্কদের জন্য সামান্য পিছলে পড়াও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির শক্তি কমে যায় এবং শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখার ক্ষমতাও হ্রাস পায়। ফলে হঠাৎ পড়ে গেলে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ডা. শাহের মতে, বর্ষাকালে বয়স্ক রোগীদের মধ্যে নিতম্বের হাড় ভেঙে যাওয়ার ঘটনা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এ ধরনের আঘাত দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন সৃষ্টি করতে পারে।
পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে তিনি কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ভালো গ্রিপযুক্ত জুতা ব্যবহার করা, প্রয়োজন হলে হ্যান্ডরেল ধরে চলাফেরা করা, ভেজা স্থানে সতর্কভাবে হাঁটা এবং পিচ্ছিল সিঁড়িতে তাড়াহুড়া না করা। এছাড়া পড়ে যাওয়ার পর আঘাত সামান্য মনে হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত শরীরচর্চা ও হাঁটার অভ্যাস শক্তি ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন করলে বর্ষাকালে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
তারা জানান, বর্ষাকালে হওয়া অধিকাংশ আঘাত বিশ্রাম, ওষুধ এবং ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়। তবে গুরুতর হাড় ভাঙা বা লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।





