লাল গাড়ি জিতে মাকে উৎসর্গ হৃদয়ের আবেগঘন বার্তা

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল ক্রিকেটার’ নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার হিসেবে একটি লাল রঙের গাড়ি পেয়েছেন জাতীয় দলের ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়। তবে গাড়ি জয়ের আনন্দের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে মাকে নিয়ে তার আবেগঘন একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট।
গাড়ির সঙ্গে তোলা ছবি প্রকাশ করে হৃদয় লিখেছেন, “মা, তোমার জন্য একটা গাড়ি কেনার নিয়ত করেছিলাম, তার কয়েক দিনের মধ্যেই পেয়ে গেলাম! অদ্ভুত না?” পোস্টটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
হৃদয়ের ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পেছনে তার মায়ের অবদান দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। শৈশবে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকার একটি একাডেমিতে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারের পক্ষে সেই খরচ বহন করা সম্ভব ছিল না। ছেলের স্বপ্ন পূরণে শেষ সম্বল জমি বন্ধক রেখে অর্থের ব্যবস্থা করেন তার মা। পরে সেই অর্থ নিয়ে ঢাকায় একটি ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হলেও প্রতারণার শিকার হন হৃদয়।
এক পর্যায়ে ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। তবে মায়ের উৎসাহ ও ত্যাগের কথা মনে করে আবারও মাঠে ফেরেন। পরবর্তীতে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়ে দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটারে পরিণত হন।
মায়ের প্রতি হৃদয়ের ভালোবাসার বিষয়টিও বহুবার সামনে এসেছে। কয়েক বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত মাকে নিয়ে লেখা তার একটি খোলা চিঠি ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। সেখানে মায়ের অসুস্থতা, সংগ্রাম এবং তাকে হারানোর ভয় নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরেন তিনি।
চিঠিতে হৃদয় লিখেছিলেন, জন্মদিনের দিনই প্রথম মায়ের ক্যান্সারের খবর পেয়েছিলেন তিনি। সেই মুহূর্তে উপলব্ধি করেছিলেন, পুরো পৃথিবীর বিনিময়েও মাকে হারাতে চান না। মায়ের চিকিৎসা ও কষ্টের সময়গুলো নিজের চোখের সামনে দেখেছেন এবং প্রতিনিয়ত তাকে হারানোর আশঙ্কার সঙ্গে লড়াই করেছেন।
মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আরও লিখেছিলেন, একজন নারীর ত্যাগ, একজন মায়ের পরিশ্রম এবং একজন মানুষের সততা সম্পর্কে সবচেয়ে বড় শিক্ষা তিনি মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছেন। মায়ের হাসিতেই তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সুখ খুঁজে পান বলেও উল্লেখ করেন।
সাম্প্রতিক এই অর্জনের পরও হৃদয়ের আবেগের কেন্দ্রে রয়েছেন সেই মা, যিনি একদিন নিজের সবকিছু ত্যাগ করে ছেলের ক্রিকেট স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। আজকের সাফল্যের গল্পে তাই পুরস্কারের লাল গাড়ির চেয়েও বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে মা-ছেলের সেই সংগ্রাম ও ভালোবাসার গল্প।





