উৎসব, বিয়ে কিংবা বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনে হাত রাঙাতে মেহেদির ব্যবহার দীর্ঘদিনের।

উৎসব, বিয়ে কিংবা বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনে হাত রাঙাতে মেহেদির ব্যবহার দীর্ঘদিনের। একসময় মেহেদিগাছের পাতা বেটে ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে বাজারে টিউব বা প্যাকেটজাত মেহেদির ব্যবহার বেড়েছে। তবে এসব পণ্যের কিছুতে এমন রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে প্রচলিত কিছু মেহেদিতে পিপিডি (প্যারা-ফিনাইলিনডাই-অ্যামাইন) নামের একটি রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে দ্রুত গাঢ় রং দেওয়া ‘ব্ল্যাক মেহেদি’তে এ উপাদানের উপস্থিতি বেশি থাকে। এটি ত্বকে অ্যালার্জি ও বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে
পিপিডিযুক্ত মেহেদি ব্যবহারের কয়েক ঘণ্টা থেকে দুই দিনের মধ্যে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—
- তীব্র চুলকানি ও জ্বালাপোড়া
- ত্বক লাল হয়ে ফোলা বা র্যাশ
- ফোসকা বা পানিভর্তি দানা
- ত্বকে কালচে দাগ পড়া, যা কখনও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে
সমস্যা দেখা দিলে করণীয়
মেহেদি ব্যবহারের পর চুলকানি, জ্বালা, ফুসকুড়ি বা ফোসকা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
- আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার পানি ও মৃদু সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
- ঠান্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় বা ঠান্ডা সেঁক দিলে জ্বালা ও ফোলাভাব কিছুটা কমতে পারে।
- চুলকানো বা খোঁচাখুঁচি করা থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এতে সংক্রমণ ও দাগের ঝুঁকি বাড়ে।
- চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন বা অ্যান্টি-অ্যালার্জিক ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
- প্রদাহ কমাতে প্রয়োজন হলে স্টেরয়েডজাত ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।
- ফোসকা, তীব্র ব্যথা বা বেশি ফোলাভাব দেখা দিলে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা দ্রুত কালো রং দেয় এমন ব্ল্যাক মেহেদি ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন। এর পরিবর্তে প্রাকৃতিক মেহেদি ব্যবহার তুলনামূলক নিরাপদ।
এ ছাড়া প্রথমবার মেহেদি ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া ভালো। শিশু ও সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মেহেদি সাধারণত নিরাপদ হলেও রাসায়নিক মিশ্রিত পণ্য ব্যবহারে অ্যালার্জি ও ত্বকের ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। তাই মেহেদি ব্যবহারের আগে এর উপাদান সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।





