অফিস শেষে ক্লান্তি ভর করলে কী করবেন, জানালেন বিশেষজ্ঞরা

দিনভর অফিসের ব্যস্ততা সামলেও অনেকেই বাড়ি ফেরার পর হঠাৎ তীব্র ক্লান্তি ও অবসাদ অনুভব করেন। কর্মস্থলে সক্রিয় থাকলেও বাসায় ফিরে শরীর যেন একসঙ্গে সব ক্লান্তির হিসাব চুকিয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক জৈবিক প্রতিক্রিয়া কাজ করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাজের সময় মানুষের শরীর ও মস্তিষ্ক এক ধরনের ‘সতর্ক অবস্থায়’ থাকে। এ সময় অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসলের মতো হরমোন নিঃসৃত হয়ে মনোযোগ, কর্মক্ষমতা ও সতর্কতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে প্রকৃত ক্লান্তি অনেক সময় অনুভূত হয় না।
তবে কর্মদিবস শেষে বাড়ি ফিরে চাপ কমে গেলে শরীর বিশ্রামের সংকেত পায়। তখন দিনের জমে থাকা শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি একসঙ্গে অনুভূত হতে শুরু করে। এ কারণে অনেকের ঘুম পায়, শরীর ভারী লাগে কিংবা কাজ করার আগ্রহ কমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত এমন পরিস্থিতি হলে কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
বাড়ি ফেরার পর অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট নিজের জন্য সময় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এই সময়টুকু বিশ্রাম নিলে শরীর ও মন কিছুটা স্বস্তি পায়।
গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামও উপকারী হতে পারে। দুই থেকে পাঁচ মিনিট ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার মাধ্যমে শরীর দ্রুত স্বাভাবিক ও প্রশান্ত অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।
এ ছাড়া হালকা হাঁটা, পছন্দের গান শোনা কিংবা এক কাপ চা পান করার মতো ছোট ছোট অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। অফিস থেকে ফিরে কিছু সময় মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে থাকাও উপকারী।
বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়ামের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। এতে শারীরিক সক্ষমতা বাড়ে এবং মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
পর্যাপ্ত ঘুমও ক্লান্তি দূর করার অন্যতম প্রধান উপায়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, এসব অভ্যাস অনুসরণের পরও যদি দীর্ঘদিন ক্লান্তি, অবসাদ বা শক্তিহীনতা থেকে যায়, তাহলে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ কখনও কখনও এ ধরনের উপসর্গের পেছনে অন্য কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যা থাকতে পারে।





