রামিসা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির জেল আপিল

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুন হাইকোর্টে জেল আপিল করেছেন। তাদের করা আপিল আবেদন রবিবার (১৪ জুন) হাইকোর্টে শুনানির জন্য উপস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদন দুটি গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে শুনানি হবে।
এদিকে মামলায় ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ডেথ রেফারেন্সসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও ইতোমধ্যে হাইকোর্টে পৌঁছেছে। আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন।
এদিকে মামলায় ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ডেথ রেফারেন্সসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও ইতোমধ্যে হাইকোর্টে পৌঁছেছে। আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন।
গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন ছাড়া এ দণ্ড কার্যকর করা যাবে না।
এ ছাড়া সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, জরিমানার অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দিতে হবে।
জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট কালেক্টরেট অফিসকে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে বিক্রির মাধ্যমে সেই অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করার অধিকার রাখেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৫ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই দিনে মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একদিনেই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হয়।
এরপর ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারা অনুযায়ী আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ মে শিশু রামিসাকে হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সোহেল রানা পালিয়ে যান। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য আসামি স্বপ্না খাতুনকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ২১ মে সোহেল রানা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর আদালতের নির্দেশে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।




