নিরালায় ফ্ল্যাটে আওয়ামী লীগ নেত্রীর সাথে ছাত্রলীগ নেতার সুমনের অনৈতিক সম্পর্ক।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
খুলনা নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের ২৩ নম্বর বাসায় এক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে শনিবার (২৭ জুন) রাতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম নিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ পৌর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি এবং জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল আল সুমন দীর্ঘদিন ধরে ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই ফ্ল্যাটে বসবাসকারী তানিয়ার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
শনিবার রাতে সুমন তানিয়ার বাসায় অবস্থান করছেন—এমন তথ্য পেয়ে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি অবহিত করেন। পরে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও বিষয়টি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সাংবাদিকদের উপস্থিতির খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বাড়ির মালিককে সঙ্গে নিয়ে ভবনের তৃতীয় তলার ওই ফ্ল্যাটে যান। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দরজায় কড়া নাড়ার পর ভেতর থেকে আব্দুল আল সুমন বের হয়ে আসেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখে তিনি দ্রুত সরে যায়।
এ সময় সাংবাদিকরা তানিয়ার সাথে কথা বলতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি এক গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ফেলে দেন বলে জানা যায়। এছাড়া সাংবাদিকদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে সুমন ও তানিয়া ছাড়াও আরও একজন নারী উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তানিয়া সুমনকে সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সুমন ফ্ল্যাটের বারান্দা ব্যবহার করে পাশের ভবনের বারান্দা হয়ে নিচে নেমে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। পরে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার একপর্যায়ে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে তানিয়ার পক্ষে অবস্থান নেন এবং এ সময় তাদের সঙ্গে কিছু গণমাধ্যমকর্মীর বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। সাংবাদিকদের দাবি, তাদের উদ্দেশে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার সময় তানিয়া খুলনার দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা শফিকুল আলম মনা ও শফিকুল আলম তুহিনের নাম উল্লেখ করে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সুমন চলে যাওয়ার পর গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয়রা পুনরায় তানিয়ার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ করে দেন বলে জানা গেছে। বাড়ির মালিকসহ কয়েকজন তাকে ডাকলেও তিনি আর সাড়া দেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তানিয়ার স্বামী আরিফ মুন্সি তৎকালীন আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তানিয়াও আওয়ামী মহিলা লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
এছাড়া বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আব্দুল আল সুমন একটি হত্যা মামলার আসামি। স্থানীয়দের দাবি, তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতা ছিলেন এবং অতীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ও ওঠাবসা ছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, তানিয়ার বাসায় প্রায়ই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন পুরুষের আনাগোনা দেখা যায়। তাদের দাবি, সন্ধ্যার পর ওই বাসায় নিয়মিত আড্ডা ও মদ্যপানের আসর বসত। এছাড়া বিভিন্ন সময় সেখানে নারীদেরও যাতায়াত করতে দেখা গেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, তানিয়ার স্বামী আরিফ মুন্সি বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং প্যারালাইসেসের রোগী।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।





