‘আবার বিশ্বকাপ জেতা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়’

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতেছিল আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে সেই সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। সময়ের সঙ্গে আরও পরিণত হয়ে ওঠা এই কোচের হাত ধরেই এবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর খুব বেশি সময় বাকি নেই। সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল সংস্থা কনমেবলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে স্কালোনি জানিয়েছেন, টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয় সহজ হবে না, তবে সেটিকে অসম্ভব বলেও দেখছেন না।
বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ খুবই কঠিন একটি প্রতিযোগিতা। এখানে শুধু ভালো খেললেই হয় না, ছোট ছোট অনেক বিষয়ও নিখুঁতভাবে করতে হয়। আগের মতো এবারও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। কারণ আর্জেন্টিনা প্রতিবার বিশ্বকাপে অংশ নেয় শীর্ষে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েই। কাজটা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।’
ইতোমধ্যে বিশ্বকাপের জন্য ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দল জমা দিয়েছেন স্কালোনি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সেখান থেকে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হবে।
এদিকে দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেছেন ৪৮ বছর বয়সী এই কোচ। ধারণা করা হচ্ছে, এটি হতে পারে মেসির শেষ বিশ্বকাপ। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করতে চাননি স্কালোনি।
তিনি বলেন, ‘মেসির খেলা দেখতে পারাটাই দারুণ এক অনুভূতি। এটি তার শেষ বিশ্বকাপ কি না, সেটি নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। সবাই তাকে মাঠে দেখতে চায়। আমি চাই সে খেলা চালিয়ে যাক। এর উল্টোটা ভাবলে কষ্ট লাগে, যেমনটা দিয়েগো ম্যারাডোনার ক্ষেত্রে হয়েছিল।’
মেসিকে নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সে আর খেলবে না—এমন চিন্তা মনে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি করে। তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে না ভেবে বর্তমানেই মনোযোগ দিতে চাই।’
আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে স্কালোনির অধীনে দলটি বিশ্ব ফুটবলে দারুণ সাফল্য পেয়েছে। তার কোচিংয়ে আর্জেন্টিনা জিতেছে ২০২২ বিশ্বকাপ এবং দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপা।
অথচ জাতীয় দলের দায়িত্ব পাওয়ার সময় অনেকেই তাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এমনকি আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাও তাঁর মতো অপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ কোচকে দায়িত্ব দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। তবে ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে সেই সমালোচনার জবাব দিয়েছেন স্কালোনি।
সাফল্যের রহস্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো কিছুই ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিই না। খেলোয়াড়দের আমরা সংক্ষিপ্তভাবে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জানাই। অতিরিক্ত তথ্য দিয়ে তাদের ওপর চাপ তৈরি করতে চাই না। আমরা নিজেরাও একসময় খেলেছি, তাই জানি একজন খেলোয়াড়ের কী প্রয়োজন। তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কও খুব কাছের।’
আসন্ন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা রয়েছে ‘জে’ গ্রুপে। একই গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া এবং জর্ডান। আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।





