হরমুজ প্রণালিতে আটকেপড়া বাংলাদেশি জাহাজ পার হওয়ার অনুমতি

হরমুজ প্রণালিতে আটকেপড়া বাংলাদেশের জাহাজগুলো পার হওয়ার বিষয়ে অনুমতি দিয়েছে ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিল। বুধবার (১ এপ্রিল) মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে ঢাকায় ইরানের দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী।
রাষ্ট্রদূত বলেন, হরমুজ প্রণালিতে থাকা বাংলাদেশের জাহাজের পরিপূর্ণ তথ্য নেয়া হয়েছে। সেই তথ্য তেহরানে পাঠানো হয়েছে। সেই জাহাজ গুলোর কোন সমস্যা হবে না। ৬টি বাংলাদেশি জাহাজ ফেরত আনার বিষয়ে কাজ করছে উভয় পক্ষ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি চলমান আঞ্চলিক সংঘাত প্রসঙ্গে বলেন, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কোনো আলোচনা হয়নি। তার অভিযোগ, যুদ্ধের মাধ্যমে যে লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র, এখন তাদের মত করে ১৫ টি প্রস্তাব দিয়ে সেটা অর্জন করতে চায়।
ইরান যুদ্ধের পক্ষে নয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, এমনভাবে যুদ্ধের অবসান চায় তেহরান যাতে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ লক্ষ্যে পাকিস্তান, তুরস্কসহ মুসলিম বিশ্বের যেসব দেশ যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা করতে আগ্রহী, তাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানায় ইরান।
বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের বিষয়ও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, দেশের পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ সারির চিত্র তেহরানে পাঠানো হয়েছে, যাতে ইরান পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, অস্ত্র ও অর্থের ঘাটতি দেখা দিলে ওয়াশিংটন ভিন্ন কৌশল নেয় এবং চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে পরাজয় স্বীকার করাতে চায়। একইসঙ্গে তিনি জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে অন্য দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের নিন্দা জানান এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম দেশ গুলো কি করে তাদের দেশে মার্কিন ঘাটি করতে দেয় এমন প্রশ্ন তোলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। ফিলিস্তিনে হতাহতের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসরায়েল ৮০ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্য করেছে।
এছাড়া, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো ও একক ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কেবল আন্তর্জাতিক সংস্থার ওপর নির্ভর করে থাকার সময় শেষ—এ বিষয়ে ইরান ইতোমধ্যে শিক্ষা নিয়েছে।






