চিনির বাজারে ফের অস্থিরতা, সরবরাহ সংকটের আড়ালে সিন্ডিকেটের ছায়া!

দুই সপ্তাহে দাম বাড়লো প্রতি মণে ৬০ টাকা
জোবায়ের হোসেন, চট্টগ্রাম :
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে সরবরাহ সংকটের অজুহাতে আবারও বাড়তে শুরু করেছে চিনির দাম। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি মণ (৩৭.৩২ কেজি) চিনির দাম বেড়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রকৃতপক্ষে বাজারে চিনির কোনো সংকট নেই। কিছু মিল মালিক ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন। আওয়ামী লীগ আমলে আলোচিত চিনির মিল সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয় হয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে বলে দাবি তাদের।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভারত নিজেদের অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে চিনির রপ্তানি বন্ধ করার ঘোষণা দিলে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়ে। সে সময় চিনির দাম বেড়ে গেলেও পরে কিছুটা কমে আসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও দাম বাড়তে শুরু করেছে।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার ঘুরে জানা গেছে, দুই সপ্তাহ আগেও প্রতি মণ চিনি বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৫৩০ টাকায়। বর্তমানে একই পরিমাণ চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ টাকায়। এছাড়া থাইল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত চিনি বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৩ হাজার ৫৬০ টাকায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চিনির আমদানি উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পায় এবং এক পর্যায়ে খুচরা বাজারে চিনির দাম ১০০ টাকার নিচে নেমে আসে। সে সময় অনেক ছোট আমদানিকারকও চিনি আমদানিতে যুক্ত হন। কিন্তু পরে দেশীয় চিনির মিল মালিকরা আমদানি মূল্যের চেয়েও কম দামে চিনি বিক্রি করে ছোট আমদানিকারকদের লোকসানে ফেলেন। এতে তারা বাজারে টিকতে না পেরে আমদানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। ফলে বাজার আবারও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা আরও জানান, বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ‘ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) স্লিপ’ নামে একটি অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতিতে পণ্য কেনাবেচা হয়ে আসছে। চিনি ও অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে অনেক সময় পণ্য হাতে পাওয়ার আগেই ডিও স্লিপ কেনাবেচা করা হয়। কোনো কোম্পানি বাজারে পণ্য ছাড়ার আগেই নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যের ডিও বিক্রি করে দেয়।
তাদের মতে, ডিও বিক্রির সময় নির্ধারিত দামের তুলনায় বাজারদর বেড়ে গেলে অনেক প্রতিষ্ঠান পণ্য সরবরাহে গড়িমসি করে। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত পণ্যের তুলনায় বেশি ডিও বিক্রি করা হয়। ফলে সময়মতো পণ্য ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হয় না এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়ে দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এ বিষয়ে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, “ভোগ্যপণ্যের বাজার কখনো স্থির থাকে না। অনেক সময় বুকিং বেড়ে যায়, আবার সরবরাহও কমে যায়। কোনো পণ্যের দাম বাড়লেই সিন্ডিকেটের অভিযোগ ওঠে। অথচ দাম কমলে এ প্রশ্ন আর আসে না। ভোগ্যপণ্যের বাজার চাহিদা ও যোগানের ভিত্তিতেই ওঠানামা করে। এখানে সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই।”





