স্পেনকে রুখে নায়ক ভোজিনিয়া, কান্নায় লিখলেন কেপ ভার্দের ইতিহাস

বিশ্বকাপের মঞ্চে আন্ডারডগদের গল্প খুব বেশি লেখা হয় না। তবে স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে সেই বিরল গল্পেরই জন্ম দিলেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষকের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী স্পেনকে রুখে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে আফ্রিকার দেশটি।
ম্যাচজুড়ে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও ভোজিনিয়ার দুর্ভেদ্য প্রাচীর ভাঙতে পারেনি স্পেন। অন্তত সাতটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন তিনি। অসাধারণ রিফ্লেক্স, নিখুঁত পজিশনিং এবং আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষের তারকাবহুল আক্রমণভাগকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখেন কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষক।
ভোজিনিয়ার দৃঢ়তায় স্পেনের কোচ ম্যাচের একপর্যায়ে তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল-কে মাঠে নামাতে বাধ্য হন। তবে তিনিও ভোজিনিয়ার সামনে সফল হতে পারেননি।
এই ম্যাচে আরেকটি অনন্য রেকর্ডও গড়েছেন ভোজিনিয়া। কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের বয়স ৪০ বছর ২২ দিন, আর ইয়ামালের বয়স ১৮ বছর ৩৪২ দিন। দুই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মধ্যে ২১ বছর ৪৫ দিনের এই ব্যবধান বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যতম বিরল ঘটনা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
পরিসংখ্যানও ভোজিনিয়ার অসাধারণ পারফরম্যান্সের সাক্ষ্য দিচ্ছে। ম্যাচে তিনি সাতটি সেভ করেছেন, যার মধ্যে ছয়টি ছিল বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া শট। এছাড়া ৪২টি পাসের মধ্যে ২৯টি সফলভাবে দিয়েছেন। লং বলের ক্ষেত্রেও ছিল উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী কোনো গোলরক্ষকের পারফরম্যান্সের সঙ্গে তুলনা করলে ভোজিনিয়ার অবস্থান অন্যতম সেরা। এই সময়ে কেবল ১৯৮৬ বিশ্বকাপে উত্তর আয়ারল্যান্ডের কিংবদন্তি গোলরক্ষক প্যাট জেনিংস এক ম্যাচে তার চেয়ে বেশি সেভ করেছিলেন।
ম্যাচ শেষে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ভোজিনিয়া। সতীর্থদের অভিনন্দন আর দর্শকদের করতালির মাঝেই চোখ ভিজে ওঠে তার। সেই দৃশ্য ছুঁয়ে গেছে ফুটবলপ্রেমীদেরও।
বিবিসির ফুটবল বিশ্লেষক প্যাট নেভিন ভোজিনিয়ার পারফরম্যান্সকে ‘অবিশ্বাস্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, পুরো ম্যাচজুড়ে তিনি আলো ছড়িয়েছেন এবং ম্যাচের প্রকৃত নায়ক ছিলেন।
সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার লি ডিক্সনও তার প্রশংসা করে বলেন, এই এক পয়েন্ট কেপ ভার্দের প্রাপ্য ছিল এবং ভোজিনিয়ার আবেগঘন মুহূর্ত দেখে তিনিও আপ্লুত হয়েছেন।
ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয়েছে ভোজিনিয়া-জ্বর। ম্যাচের আগে ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৫ হাজার। স্পেনকে রুখে দেওয়ার পর সেই সংখ্যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।
ফুটবলে প্রায়ই বলা হয়, গোলকিপারদের ভুলই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। কিন্তু এই ম্যাচে ভোজিনিয়া দেখিয়ে দিলেন, একজন গোলরক্ষক চাইলে একাই বদলে দিতে পারেন একটি ম্যাচের গল্প। তার চোখের জল তাই হতাশার নয়, অর্জনের। সেই কান্না কেপ ভার্দের ইতিহাসের, আন্ডারডগদের স্বপ্নের এবং বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় এক রাতের প্রতীক হয়ে থাকবে।





