সবজির বাজারে স্বস্তি, বেড়েছে মাছ ও মুরগির দাম

রাজধানীর খুচরা বাজারে মৌসুমি সবজির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও মাছ ও মুরগির বাজারে বেড়েছে দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাসের শুরুতে সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় আমিষজাতীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
শনিবার রাজধানীর রামপুরা, গুলশান, বাড্ডাসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজারে কাঁকরোল, ধুন্দল, চিচিঙ্গা, পটল, ঝিঙে ও পেঁপেসহ বেশিরভাগ মৌসুমি সবজি আগের দামে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে। তবে লম্বা ও গোল বেগুনের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ১০০ টাকায় পৌঁছেছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল প্রায় ৮০ টাকা। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়।
মাছের বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা। ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা কেজি দরে।
এ ছাড়া মাঝারি আকারের রুই ও কাতল মাছ প্রতি কেজি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেশি। তেলাপিয়ার দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ২৭০ টাকায় উঠেছে, যা আগে ছিল ২৪০ টাকা। সিলভার কার্পসহ অন্যান্য মাছের দামও কিছুটা বেড়েছে।
রামপুরা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী সুপন বর্মণ বলেন, ইলিশের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও রুই, কাতল ও তেলাপিয়ার দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে বেড়েছে। আড়তে সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে।
মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি। সোনালি মুরগির কেজি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে থেকে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি। ডিমের দাম অপরিবর্তিত থেকে প্রতি ডজন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে গরুর মাংসের বাজারে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে এ পণ্য।
জোয়ার সাহারা বাজারের মুরগি বিক্রেতা সুমন বলেন, মাসের শুরুতে সরবরাহজনিত কারণে প্রায়ই দাম কিছুটা বাড়ে। তবে দাম বাড়লেও বিক্রিতে তেমন প্রভাব পড়ে না।
ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জাকির হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, সবজির বাজার এখনও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে মাছ কিনতে গেলে আগের চেয়ে বেশি খরচ করতে হচ্ছে।
আরেক ক্রেতা মো. ইবরাহিম বলেন, মুরগির দামও বেড়েছে। বাজারে অধিকাংশ পণ্যের দাম বাড়লেও মানুষের আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের আশা, সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী সপ্তাহে মাছ ও মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।




