সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে ভারতকে কড়া বার্তা পাকিস্তানের

সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে ভারতের প্রতি কড়া অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান। দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হস্তক্ষেপের চেষ্টা করলে তার কঠোর পরিণতি হবে।
মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সিন্ধু পানিচুক্তি ঘিরে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এ মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের মন্ত্রী।
এক সংবাদ সম্মেলনে মুসাদিক মালিক ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান তার ন্যায্য পানির অংশ থেকে বঞ্চিত হতে রাজি নয় এবং এ বিষয়ে দেশটি নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে জানা যায়, তিনি অভিযোগ করেন যে ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানে পানিপ্রবাহ সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে পাকিস্তানের কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা এবং অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মুসাদিক মালিক বলেন, পাকিস্তানের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে দেশের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান আগেও স্পষ্ট করেছে যে প্রাপ্য পানি থেকে দেশটিকে বঞ্চিত করার যে কোনো প্রচেষ্টার জবাব দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, সিন্ধু পানিচুক্তি এখনো আইনগতভাবে কার্যকর রয়েছে এবং এটি কোনো পক্ষ একতরফাভাবে স্থগিত, বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না। তার মতে, আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির ভিত্তিতে পাকিস্তানের অবস্থান সমর্থনযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির একাধিকবার বলেছেন, পানি পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এটি দেশটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থের বিষয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদমন্ত্রী সি আর পাটিল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভারত আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে সিন্ধু নদব্যবস্থার পানিতে নিজেদের প্রাপ্য অংশ পুরোপুরি ব্যবহার করতে চায়। ভারতের জন্য নির্ধারিত পানির অংশ পাকিস্তানে প্রবাহিত হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানিচুক্তি অনুযায়ী সিন্ধু নদী ও এর উপনদীগুলোর পানিবণ্টন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে চুক্তিটি আবারও দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।





