মাদক প্রবেশ ঠেকাতে সরকার কঠোর অবস্থানে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দেশের যুবসমাজকে বিপথগামী করতে প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্র মাদক প্রবেশের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিরোধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
শুক্রবার নেত্রকোনার মদন উপজেলার উচিতপুর ট্রলারঘাটে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে মাদকের বিস্তার রোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। যুবসমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে তিনি হাওরাঞ্চলের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, একটি মা মাছ থেকে এক লাখ থেকে দেড় লাখ পর্যন্ত পোনা উৎপাদন হতে পারে। তাই মা মাছ সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে জেলে ও সংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, আগামী পাঁচ মাস মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকলে উৎপাদন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে যে মাছ কম দামে বিক্রি হচ্ছে, কয়েক মাস পর সেগুলো আকারে বড় হয়ে বেশি মূল্য পাওয়া যাবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা আবারও ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করতে চাই। মা মাছ রক্ষা করা গেলে জেলেদের যেমন লাভ হবে, তেমনি দেশের মৎস্যসম্পদও সমৃদ্ধ হবে।”
রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “খুন, গুম, নির্যাতন ও জুলুমের মাধ্যমে কেউ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। অতীতে যারা জনগণের ওপর নির্যাতন চালিয়ে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেছে, শেষ পর্যন্ত তারা জনরোষের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।”
উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন নেত্রকোণা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ।
এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকসহ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





