‘বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখলাম’ — নুসরাত ফারিয়া

চিত্রনায়িকা ও সংগীতশিল্পী নুসরাত ফারিয়া। সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রকাশ পেয়েছে তাঁর গাওয়া গান ‘লোকে বলে’। সিনেমার আইটেম গানের ধাঁচে নির্মিত এ গানটি দর্শক-শ্রোতার মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। অভিনয় ও গানের এই পথচলা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন অনিন্দ্য মামুন।
‘লোকে বলে’ গানটি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। সময়টা কেমন উপভোগ করছেন?
সত্যি বলতে, মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পাচ্ছি, তা আমাকে ভীষণ আনন্দ দিচ্ছে। অনেকেই বলছেন, ঈদের বিনোদনে গানটি আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। এটি আমার জন্য বড় অর্জন। সবচেয়ে ভালো লাগছে, গানটি মানুষের অনুভূতিকে ছুঁতে পেরেছে—একজন শিল্পীর কাছে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে।
গানটি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কি পূরণ হয়েছে?
অনেকটাই হয়েছে। গানটি ঈদের আগে প্রকাশ করেছি। এরপরই বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হয়। তখন একটু সংশয়ে ছিলাম—এত বড় ক্রীড়া আয়োজনের মধ্যে গানটি দর্শকদের আলোচনায় জায়গা পাবে কি না। কারণ সবার মনোযোগ তো তখন ফুটবলে থাকে। কিন্তু বাস্তবে দেখলাম সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। প্রতিদিন নতুন নতুন ভিডিও, রিলস, কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। বিভিন্ন মাধ্যমে মিলিয়ে কোটি মানুষ গানটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। একজন শিল্পীর জন্য এটি দারুণ অনুভূতি।
সিনেমার গানের মতো বড় আয়োজন করে গান প্রকাশ—এটা কি শুধু শখ?
শখ, দায়বদ্ধতা এবং ভালো কিছু করার ইচ্ছা—সবই কাজ করেছে। আমি সবসময় চেষ্টা করি আমার কাজটিতে সর্বোচ্চ মনোযোগ ও শ্রম দিতে। গানটি যেহেতু আমার, তাই নিজের মতো করে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি বিশ্বাস করি, ফিরে এলে ভালো কিছু নিয়েই ফিরতে হবে।
শুধু গান নয়, সিনেমার খবর কী?
দর্শক আমাকে মূলত চিত্রনায়িকা হিসেবেই চেনেন। তাই সিনেমার খবর তো থাকবেই। দুটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। একটি কলকাতার প্রযোজনায়, অন্যটি বাংলাদেশের। কলকাতার ছবির নাম ‘রকস্টার’, পরিচালনায় আয়ুষ্মান প্রত্যুষ। এতে আমার বিপরীতে রয়েছেন যশ দাশগুপ্ত। আর বাংলাদেশের ছবির নাম ‘ঠিকানা ৭১’, এটি পরিচালনা করেছেন অনম বিশ্বাস। এখানে আমার সহশিল্পী আরিফিন শুভ। মুক্তির তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি। এছাড়া নতুন কিছু কাজ নিয়ে কথাবার্তা চলছে, চূড়ান্ত হলে জানানো হবে।
আপনি একটি বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছেন, যারা এখন সিনেমাতেও বিনিয়োগ করছে। তাদের সিনেমায় আপনাকে দেখা যায় না কেন?
কোনো প্রতিষ্ঠান পরিবারের মতো হলেই যে তাদের সব প্রজেক্টে আমাকে নিতে হবে, এমন নয়। গল্পের চরিত্রের সঙ্গে আমাকে মানানসই হতে হবে। যদি কখনও চরিত্রের সঙ্গে আমি মানিয়ে যাই, তাহলে অবশ্যই কাজ করব।
গত বছর ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন সময় পার করেছেন। এখন কেমন আছেন?
আলহামদুলিল্লাহ, এখন অনেকটাই ভালো আছি। আমি সবসময় নিজের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতন থাকার চেষ্টা করি। কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজেকে সময় দেওয়ার চেষ্টা করি।
সেই কঠিন সময় থেকে কী শিখেছেন?
জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতাই কিছু না কিছু শেখায়। সময়টা সহজ ছিল না, এটা অস্বীকার করছি না। তবে যদি সেই অভিজ্ঞতায় ভেঙে পড়তাম, তাহলে আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেতেন। তারা সবসময় আমার পাশে ছিলেন, আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। তাদের ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করছি।
মানসিকভাবে কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছেন?
এখনও চেষ্টা করছি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে। বাবা-মা, বন্ধুদের কাছ থেকে অসাধারণ সমর্থন পেয়েছি। তাদের ভালোবাসা ও সাহচর্য আমাকে শক্তি দিয়েছে। মা একদিন বলেছিলেন, ‘নিজেকে ব্যস্ত রাখো, কাজে ফিরে যাও।’ সেই কথাটাই সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা দিয়েছে।





