ফের পাইরেসির কবলে শাকিবের 'রকস্টার', হতাশায় ডুবছে ঈদের সিনেমা বাজার

ঢাকাই সিনেমাকে এখন বলা হয় ঈদকেন্দ্রিক শিল্প। সারা বছর প্রেক্ষাগৃহ ফাঁকা থাকলেও ঈদের সময় দর্শকের ঢল নামে, হলগুলো কমপক্ষে এক মাস জমজমাট ব্যবসা করে। কখনো কখনো সেই আমেজ আরও দীর্ঘ হয়েছে। অগ্রিম টিকিট কেটেও পছন্দের শো পাওয়া যায়নি — এমন নজিরও আছে। রোজার ঈদে মুক্তি পাওয়া 'বনলতা এক্সপ্রেস' কোরবানির ঈদ পর্যন্ত সিনেপ্লেক্সগুলোতে দাপটের সঙ্গে চলেছে। তবে এবারের চিত্র একেবারে বিপরীত। দুই সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই নিভে গেছে ঈদের সিনেমার আলো।
এই কোরবানির ঈদে মুক্তি পেয়েছে আটটি সিনেমা — 'রকস্টার', 'রইদ', 'মালিক', 'বনলতা সেন', 'মাসুদ রানা', 'তছনছ', 'অফিসার' ও 'পিনিক'। তবে কোনোটিই প্রত্যাশামতো ব্যবসা করতে পারেনি। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। হল থেকে বেরিয়ে কেউ প্রশংসা করেছেন, কেউ সমালোচনা। হলমালিকেরা আশা করেছিলেন সময়ের সঙ্গে দর্শক বাড়বে, কিন্তু বরং দিনে দিনে কমেছে উপস্থিতি।
ফাঁকা হল, বিদেশি সিনেমার দরজা খুলল
আগামীকাল দুই সপ্তাহ পূর্ণ করবে ঈদের সিনেমাগুলো। এর মধ্যেই প্রেক্ষাগৃহগুলো হয়ে পড়েছে প্রায় শূন্য। স্টার সিনেপ্লেক্সের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, বেশিরভাগ শোর আসন ফাঁকা পড়ে আছে। পরিস্থিতি সামলাতে ঈদের সিনেমার পাশাপাশি 'মাইকেল' ও 'সিকিন নাইন'সহ চারটি বিদেশি সিনেমা চালাতে বাধ্য হচ্ছে সিনেপ্লেক্সটি। এই শুক্রবার থেকে আরও একটি হলিউড সিনেমা যোগ হচ্ছে তালিকায়। একই দশা যমুনা ব্লকবাস্টারেও। অথচ গত কয়েক বছরের ঈদে দেশি সিনেমার চাপে বিদেশি সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ রাখতে হয়েছিল সিনেপ্লেক্সগুলোকে।
স্টার সিনেপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (বিপণন) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, কয়েক বছর ধরে ঈদের সময় সাফল্যের যে ধারা চলছিল, এবার তা ভেঙে পড়েছে। কোনো সিনেমাই প্রত্যাশিত সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। তবে তুলনামূলকভাবে 'রকস্টার', 'রইদ' ও 'বনলতা সেন' মোটামুটি চলছে বলে জানান তিনি।
সিঙ্গেল স্ক্রিন মালিকদের হতাশা আরও গভীর। প্রতি ঈদে শাকিব খানের সিনেমা দেখতে দর্শকের লম্বা লাইন থাকলেও এবার শুরু থেকেই হলগুলো ছিল ফাঁকা। চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, প্রতি ঈদে হলমালিকদের মুখে হাসি ফুটলেও সর্বশেষ দুই ঈদে তা হয়নি। গত রোজার ঈদের মতো এই ঈদেও সারা দেশের হল ব্যবসায়ীরা হতাশায় ডুবে আছেন।
পাইরেসির আঘাত 'রকস্টারে'
রোজার ঈদে 'প্রিন্স'-এর বিপর্যয়ের পর অনেকে ভেবেছিলেন 'রকস্টার' দিয়ে ঘুরে দাঁড়াবেন শাকিব খান। আজমান রুশো পরিচালিত এই সিনেমায় শাকিবের অভিনয় প্রশংসা পেলেও সিঙ্গেল স্ক্রিন ও সিনেপ্লেক্স — দুই জায়গাতেই দর্শক উপস্থিতি ছিল প্রত্যাশার নিচে। তার ওপর মুক্তির মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেলে ছড়িয়ে পড়েছে সিনেমাটির ভিডিও লিংক — পাইরেসির কবলে পড়েছে 'রকস্টার'।
এর আগে গত বছর দুই ঈদে মুক্তি পাওয়া 'বরবাদ' ও 'তাণ্ডব' পাইরেসির শিকার হলেও ব্যবসায়িকভাবে ভালো করেছিল। তবে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। দর্শকখরায় ইতিমধ্যে দুর্বল হয়ে পড়া 'রকস্টারের' জন্য এই পাইরেসি যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে।





