রোনালদোর ব্যর্থতার পরও আস্থা হারাননি পর্তুগাল কোচ

বিশ্বকাপের শুরুটা স্বপ্নের মতো হয়েছে আর্লিং হালান্ড, কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসির। তবে একই প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামলেও হতাশ করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের ১-১ গোলের ড্র ম্যাচে পুরো সময় খেলেও কোনো শট নিতে পারেননি তিনি।
৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে শক্তিশালী পর্তুগালকে রুখে দিয়ে চমক দেখিয়েছে ডিআর কঙ্গো। ম্যাচজুড়ে রোনালদো ছিলেন নিষ্প্রভ। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে তাকে বদলি করা উচিত ছিল কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে ম্যাচ শেষে রোনালদোর পক্ষেই অবস্থান নেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। তার মতে, গোলের প্রয়োজন থাকা অবস্থায় বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলদাতাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর গোলখরা আরও দীর্ঘ হয়েছে। বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে টানা ১০ ম্যাচ ধরে গোলের দেখা পাচ্ছেন না তিনি। অনেকের মতে, বয়সের কারণে তার কার্যকারিতা কমে গেছে। তবে মার্তিনেজ এ ধরনের মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন।
রোনালদোকে পুরো ম্যাচ খেলানোর সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “আমরা ক্রিশ্চিয়ানোকে তার বয়স দিয়ে বিচার করি না। সে কেমন অনুভব করছে এবং কতটা প্রস্তুত, সেটাই বিবেচনা করি। যে ম্যাচে আপনার গোল দরকার, সেখানে বিশ্বের সেরা গোলদাতাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার কোনো অর্থ হয় না।”
৪১ বছর বয়সী রোনালদো ম্যাচে প্রভাব ফেলতে না পারলেও শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল পর্তুগাল। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও নেভাসের গোলে লিড নেয় দলটি। তবে প্রথমার্ধেই সমতা ফেরায় ডিআর কঙ্গো। দ্বিতীয়ার্ধে সেড্রিক বাকাম্বুর একটি শট পোস্টে না লাগলে পর্তুগাল হারও দেখতে পারত।
তবে টুর্নামেন্টের শুরুতেই পয়েন্ট হারানোকে বড় কোনো সংকট হিসেবে দেখছেন না মার্তিনেজ। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপে এমনটা হতেই পারে। ২০২২ সালে সৌদি আরবের কাছে হেরে শুরু করেও আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ২০১০ সালে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরেও স্পেন বিশ্বকাপ জিতেছিল। বিশ্বকাপ জেতা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।”
মার্তিনেজের মতে, গোল করার পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করে তার দল। তিনি বলেন, “আমরা ভালো শুরু করেছিলাম। বলের দখল ছিল, সুযোগ তৈরি করেছি এবং গোলও পেয়েছি। সাধারণত এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। কিন্তু এবার উল্টো হয়েছে। আমরা প্রতিপক্ষকে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ দিয়েছি এবং নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দও হারিয়েছি।”
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশিত ফল না পেলেও পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী পর্তুগাল কোচ। তার বিশ্বাস, দীর্ঘ টুর্নামেন্টে দলটি নিজেদের সেরা খেলাটা উপহার দিতে পারবে।





