মোদি–মেলোনির ছবি ও ‘মেলোডি’ চকলেট ঘিরে সরগরম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

ইতালির রাজধানী রোমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কয়েকটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক কলোসিয়ামের সামনে দুই নেতার একসঙ্গে তোলা ছবি এবং ‘মেলোডি’ চকলেটকে ঘিরে তৈরি হওয়া ঘটনা এখন অনলাইনজুড়ে ভাইরাল।
মোদি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে কলোসিয়ামের সামনে তোলা ছবি প্রকাশ করেন। এছাড়া গাড়িতে পাশাপাশি বসা অবস্থায় তোলা আরও একটি ছবিও তিনি শেয়ার করেন। ভোরের আলোয় ধারণ করা এসব ছবি দ্রুতই নেটিজেনদের নজর কাড়ে। অন্যদিকে জর্জিয়া মেলোনিও মোদির সঙ্গে একটি সেলফি প্রকাশ করেন, যা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মাধ্যমে।
গত মঙ্গলবার রাতে রোমে পৌঁছান নরেন্দ্র মোদি। এরপর তিনি জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে ঐতিহাসিক কলোসিয়াম পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি মেলোনিকে ‘মেলোডি’ ব্র্যান্ডের একটি চকলেট উপহার দেন। সেই সময় দুই নেতাকে হাস্যোজ্জ্বল পরিবেশে ভিডিও ধারণ করতেও দেখা যায়।
মেলোনির শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, উপহার পেয়ে তিনি বেশ আনন্দিত হয়ে মোদিকে ধন্যবাদ জানান। ভিডিওতে দুজনকেই ক্যামেরার সামনে প্রাণখোলা হাসিতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে মেলোনি লিখেছেন, ‘উপহারের জন্য ধন্যবাদ।’
ভিডিওটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। কোটি কোটি মানুষ এটি দেখেছেন এবং হাজারোবার শেয়ার করা হয়েছে। ভারতের ক্ষমতাসীন দলও ভিডিওটি নিজেদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করে। দলটির পক্ষ থেকে এটিকে প্রধানমন্ত্রী মোদির রসবোধের একটি ভিন্ন দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বুধবার দিনজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মোদি–মেলোনি জুটি। কলোসিয়ামের সামনে তোলা ছবি, সেলফি এবং ‘মেলোডি’ চকলেট নিয়ে নেটদুনিয়ায় নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
পরে এক যৌথ বিবৃতিতে জর্জিয়া মেলোনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার ভিত্তিতে তাদের মধ্যে আন্তরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতো ইতালিও ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখে। ২০২৩ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি–২০ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় থেকেই মোদি ও মেলোনির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষভাবে আলোচিত হয়ে ওঠে।
দুই নেতার নামের মিল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া ‘মেলোডি’ নামটিও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেকের ধারণা, এই জনপ্রিয়তার বিষয়টি মাথায় রেখেই মোদি এবার ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে একই নামের চকলেট উপহার দিয়েছেন।
তবে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের এমন রসিকতা জনসমক্ষে কতটা উপযুক্ত, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক।
ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেন, ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির মতো অর্থনৈতিক চাপের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর এমন আচরণ সময়োপযোগী নয়।
অন্যদিকে ‘মেলোডি’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। অনলাইন সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তাদের প্ল্যাটফর্মে ‘মেলোডি’ চকলেটের খোঁজ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একইভাবে একটি বিমান সংস্থাও এই বিষয়কে কেন্দ্র করে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে।
এদিকে ভারতের শেয়ারবাজারেও ঘটেছে মজার একটি ঘটনা। ভিডিও প্রকাশের পর ‘পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, চকলেট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ভেবে অনেক বিনিয়োগকারী ভুল করে ওই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনতে শুরু করেছিলেন।
রোম সফরের অংশ হিসেবে বুধবার সকালে ঐতিহাসিক ‘ভিলা ডোরিয়া পামফিলি’ এলাকায় বৈঠকে বসেন মোদি ও মেলোনি। বৈঠক শেষে দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে সেখানে একটি তুঁতগাছও রোপণ করেন তারা।





