সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন মিয়ার মৃত্যু

সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ মোশারফ হোসেন মিয়া আর নেই। শনিবার দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
রোববার বাদ আসর লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
পারিবারিক সদস্য ও লক্ষ্মীপুর জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রিপন পাটোয়ারী তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাজনৈতিক ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মোশারফ হোসেন মিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন শহীদুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ছিলেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হাতিয়া-রামগতি অঞ্চলের জোনাল কমান্ডারের দায়িত্বও পালন করেন।
পরবর্তীতে তিনি লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখেন।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, মোশারফ হোসেন মিয়ার মৃত্যুতে দেশ একজন দেশপ্রেমিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অভিভাবককে হারাল। মুক্তিযুদ্ধ এবং রামগতি-কমলনগর অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল মান্নান, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আবুল বারাকাত দুলাল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
মোশারফ হোসেন মিয়ার মৃত্যুতে লক্ষ্মীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও মুক্তিযুদ্ধে অবদান স্থানীয় মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।





