রোহিঙ্গা সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানালেন শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে সাধারণ বন্ধুত্বের পর্যায় থেকে বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সমর্থনের ভিত্তিতে একটি প্রকৃত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার জাতীয় সংসদের ‘ককাস অব আমেরিকা’ এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর ও কার্যকর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সমর্থনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে দেশটির সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
বক্তব্যে তিনি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং দেশীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি পুনরায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অঞ্চলটিতে উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানানো উচিত। একই সঙ্গে তিনি সেখানে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদীয় কূটনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা। শরণার্থী পরিবার, বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ এবং কণ্ঠহীন শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সংসদ সদস্যদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও জনগণকে স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীতে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংসদ সদস্য ড. মো. ওসমান ফারুক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
‘ককাস অব আমেরিকা’র কার্যনির্বাহী কমিটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম এবং মারদিয়া মমতাজ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।





