গাজায় ইসরাইলি হামলায় আল জাজিরার ক্যামেরাপারসনসহ নিহত ৬

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আল জাজিরার ক্যামেরাপারসন আহমেদ উইশাহ এবং একাধিক শিশুও রয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও উদ্ধারকর্মীদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
আল জাজিরার তথ্যমতে, শনিবার মধ্য গাজার একটি আবাসিক ভবনে ইসরাইলি হামলায় তাদের ক্যামেরাপারসন আহমেদ উইশাহ নিহত হন। ঘটনাটিকে সংবাদমাধ্যমটি ‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে আল জাজিরা বলেছে, আহমেদ উইশাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইন ও সাংবাদিকদের সুরক্ষাবিষয়ক নীতিমালার পরিপন্থী। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, গাজায় সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এ ঘটনা ঘটেছে।
তবে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, উইশাহ হামাসের সামরিক শাখার সদস্য এবং স্নাইপার হিসেবে কাজ করতেন। যদিও এ দাবির পক্ষে তারা কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি হামলায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় হাসপাতাল ও উদ্ধার সংস্থার তথ্যমতে, মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি বাড়িতে হামলায় আহমেদ উইশাহসহ আরও দুজন নিহত হন। আইডিএফ ওই দুই ব্যক্তিকেও হামাসের সদস্য বলে দাবি করেছে।
উল্লেখ্য, আহমেদ উইশাহর ভাই ও আল জাজিরার আরেক সংবাদদাতা মোহাম্মদ উইশাহও চলতি বছরের এপ্রিলে ইসরাইলি হামলায় নিহত হন। তখনও আইডিএফ তার বিরুদ্ধে হামাসের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছিল।
এদিকে গাজার সাবরা এলাকায় রাতভর চালানো পৃথক হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
নিহত পরিবারের স্বজন নায়েল সাফাদি বলেন, “তাদের সঙ্গে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পর্ক ছিল না। তারা সাধারণ মানুষ ছিল।”
আরেক স্বজন মোহাম্মদ সাফাদি প্রশ্ন তোলেন, “এটাই কি যুদ্ধবিরতি? আমরা সাধারণ নাগরিক, কখনও অস্ত্র হাতে নিইনি।”
এ ছাড়া গাজার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলেও নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।





