খুলনায় ব্রাজিল সমর্থকের হামলার অভিযোগ, সাংবাদিকদের হেনস্তা ও হত্যার হুমকি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
খুলনার হাদিস পার্কে ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচ শেষে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলা, হেনস্তা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৬ জুলাই) খুলনার হাদিস পার্কে ম্যাচ শেষে নরওয়ের ২–১ গোলের জয়ের পর বিজয়ী সমর্থকদের আনন্দ-উল্লাস এবং পরাজিত ব্রাজিল সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া ভিডিও ধারণ করছিলেন কেটিভি ২৪(Ktv24)এর স্টাফ রিপোর্টার মিজানুর রহমান সুজন আকন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় এক ব্রাজিল সমর্থকের প্রতিক্রিয়া জানতে এগিয়ে গেলে ঐ ব্রাজিল সমর্থক কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই মিজানুর রহমানের হাতে থাকা বুম (মাইক্রোফোন) ছুড়ে ফেলে দেন এবং তাকে মারতে তেড়ে আসেন।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত দৈনিক লোকালয় ও বাংলা স্টারের জেলা প্রতিনিধি ফাহিম ইসলাম, পহেলা নিউজের রিপোর্টার নাইম হাসানসহ অন্যান্য সাংবাদিক এগিয়ে গেলে তাদের প্রতিও তেড়ে আসে, ঐ যুবক হেনস্তা এবং ভয়ভীতি দেখায় উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের দাবি, ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জানানো হয় যে তার অনুমতি ছাড়া কোনো ভিডিও ধারণ করা হবে না। পাশাপাশি বিষয়টির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে আপত্তি থাকলে ধারণ করা ফুটেজ মুছে ফেলতেও সম্মতি জানান মিজানুর। কিন্তু এরপরও তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের মারতে তেড়ে আসেন এবং অশোভন আচরণ করতে থাকেন।
কেটিভি ২৪-এর স্টাফ রিপোর্টার মিজানুর রহমান সুজন আকন বলেন, “খেলা শেষে ব্রাজিলের পরাজয়ের পর সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করতে গেলে কোনো কথা না বলেই ওই ব্যক্তি আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি আমার মাইক্রোফোন ছুড়ে ফেলে দেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে জানাই, তার অনুমতি ছাড়া কোনো ভিডিও ধারণ করা হবে না এবং বিষয়টির জন্য দুঃখও প্রকাশ করি। কিন্তু এরপরও তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে আমাকে মারতে তেড়ে আসেন।”
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে খুলনার শঙ্খমার্কেট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, *“আমার বাসা শঙ্খমার্কেট এলাকায়। আমি এখানকার স্থানীয়। এখানে খেলা চালাতে দেব না। তোদের দেখে নেব। এরপর এখানে ভিডিও করতে আসিস, সব কয়টাকে মেরে ফেলব।”* উপস্থিত সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ সময় তিনি প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকিও দেন।
এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে পহেলা নিউজের রিপোর্টার নাইম হাসানকে মারধরের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দৈনিক লোকালয় ও বাংলা স্টারের জেলা প্রতিনিধি ফাহিম ইসলামের হাত থেকে মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়া হয় এবং তাকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ঘটনার পর উপস্থিত সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রকাশ্যে হেনস্তা, হামলার চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়তে হয়, তাহলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।





