খুলনায় এনা পরিবহনের কাউন্টারের বাথরুমে কলেজছাত্রের গলাকাটা অবস্থায় জীবিত উদ্ধার

খুলনা জেলা প্রতিনিধি: ফাহিম ইসলাম
খুলনার দৌলতপুরে এনা পরিবহনের একটি কাউন্টারের বাথরুম থেকে গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতপ্রাপ্ত এক কলেজছাত্রকে উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কাউন্টারের ক্যাশবাক্স থেকে টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনাটি ডাকাতির অংশ, পরিকল্পিত হামলা নাকি আত্মহত্যার চেষ্টা—এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ।
রোববার (৫ জুলাই) মাগরিবের নামাজের পর নগরীর নতুন রাস্তার মোড় এলাকায় অবস্থিত এনা পরিবহনের দৌলতপুর কাউন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ইমন (২০) দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিএল কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা শাহজাহান সাজু। পরিবারের দাবি, ঘটনার দিনই তিনি প্রথমবারের মতো এনা পরিবহনের ওই কাউন্টারে কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেছিলেন।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মাগরিবের নামাজের সময় কাউন্টারের অন্যান্য কর্মীরা বাইরে গেলে ইমন একাই দায়িত্বে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর সহকর্মীরা ফিরে এসে তাকে কাউন্টারে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে কাউন্টারের বাথরুমের ভেতরে গলায় গভীর ক্ষত নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ও সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এদিকে এনা পরিবহনের সংশ্লিষ্টদের দাবি, ইমনকে আহত করার সময় কাউন্টারের ক্যাশবাক্সে থাকা টাকাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে কত টাকা খোয়া গেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
হাসপাতালে উপস্থিত ইমনের মামাতো ভাই মিরাজ হোসেন বলেন, ‘আজই সে চাকরিতে যোগ দিয়েছিল। কাউন্টারের একজন কর্মী নামাজে গেলে ফিরে এসে ইমনকে দেখতে পাননি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাথরুমের ভেতরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।
ইমনের বাবা শাহজাহান সাজু বলেন, ‘খবর পেয়ে হাসপাতালে এসেছি। আমার ছেলে সম্প্রতি বিএল কলেজে অনার্সে ভর্তি হয়েছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি চাকরিও শুরু করেছিল। কে বা কারা তার এমন ক্ষতি করল, তা আমাদের জানা নেই। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানাই।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ইমনকে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে এবং চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহা. মোরাদুল ইসলাম জানান, মাগরিবের নামাজের সময় কাউন্টার ম্যানেজার মসজিদে যান। পরে ফিরে এসে ইমনকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করা হয়। একপর্যায়ে কাউন্টারের বাথরুম থেকে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এটি ডাকাতি, পরিকল্পিত হামলা নাকি আত্মহত্যার চেষ্টা—কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।





