অডিট থেকে অব্যাহতির প্রলোভনে অর্থ দাবি, সতর্কবার্তা এনবিআরের

কর নথি অডিটের নামে করদাতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে একটি প্রতারক চক্র। অডিট থেকে অব্যাহতির আশ্বাস কিংবা আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে তারা বিভিন্ন কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে সতর্ক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
রোববার এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব গণমাধ্যমকে বলেন, করদাতাদের হয়রানিমুক্ত ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করতে এনবিআর বদ্ধপরিকর। তাই প্রতারকদের প্রলোভন বা ভয়ভীতিতে বিভ্রান্ত হয়ে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্য করদাতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, কেউ যদি এনবিআরের কর্মকর্তা পরিচয়ে অর্থ দাবি করে, তাহলে বিষয়টি দ্রুত নিকটস্থ থানা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। এ ধরনের ঘটনায় আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনবিআর জানিয়েছে, সম্প্রতি এক শ্রেণির প্রতারক বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে করদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের আয়কর নথি অডিটের জন্য নির্বাচিত হয়েছে বলে দাবি করছে। এরপর অডিট থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রলোভন বা আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে।
সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, কর নথি অডিট সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বা অননুমোদিত মাধ্যমে করদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। কোনো কর নথি অডিটের জন্য নির্বাচিত হলে আইন অনুযায়ী কেবল আনুষ্ঠানিক লিখিত নোটিশের মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট করদাতাকে জানানো হয়।
এনবিআর আরও জানায়, কর-সংক্রান্ত সব ধরনের বকেয়া কর বা ফি শুধুমাত্র সরকারি চালানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হয়। কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে কিংবা বিকাশ, নগদ, রকেট বা অন্য কোনো মোবাইল আর্থিক সেবা কিংবা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের ক্ষমতা রাখেন না।
সন্দেহজনক ফোনকল, খুদে বার্তা (এসএমএস) বা ই-মেইল পেলে বিভ্রান্ত না হয়ে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের উপকর কমিশনারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে এনবিআর।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্রথম ধাপে ১৫ হাজার ৪৯৪টি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৭২ হাজার ৩৪১টি আয়কর রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়। সর্বশেষ গত ৩০ জুন ব্যক্তি শ্রেণির আরও ৫ হাজার ১৪টি আয়কর রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।





